|

আদর্শ সন্তান গঠনে মা- বাবার ভূমিকা অপরিসীম

প্রকাশিতঃ ৩:৫৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮

 আনোয়ারা নীনাঃ

মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ‘আশরাফুল মাখলুকাত ‘ হিসেবে। দিয়েছেন মূল্যবান উপহার ‘জীবন ‘। আমরা এই জীবনকে সুন্দর করে সাজানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি  নিরন্তর। মানুষ তার মনের মত করে তার ভাল লাগাকে প্রাধান্য দিয়ে সুখী জীবনের প্রত্যাশা করে যাচ্ছে।কারণ জীবন একটাই।এই উপলদ্ধি থেকে কত না যুদ্ধ  করে জীবনকে ঢেলে সাজানোর  চেষ্টা  হোক সে নারী বা পুরুষ। নারীর জীবনকে ছকবাঁধা ফ্রেমে আটকিয়ে নির্দিষ্ট করে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে যুগে যুগে।যে নারীর গর্ভ থেকে জন্ম নেয় নতুন আরেক মানব সন্তান, যে নারীর হাত ধরে শুভ সূচনা হয় কৃষির, যে নারীর বুদ্ধিমত্তায় জয় লাভ হয় যুদ্ধের, যে নারীর ভালবাসায় টিকে আছে সভ্যতা, আবার সে নারীর জীবন হয়ে যায় কোন এক সময় দূর্বিষহ। কেন হয় তা কি আমরা কখনো খোঁজে দেখেছি?ভারতীয় উপমহাদেশে সতীদাহ  প্রথা হোক আর আজকের কম্প্রোমাইজ প্রথা হোক সব প্রথাই মূলতঃ নারী শোষনের হাতিয়ার। আমাদের দেশের একজন নারী সে শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত  হোক,কর্মজীবী হোক আর গৃহিনী হোক তাকে শোষন করা হচ্ছে। সে জন্য দায়ী কোন একক কারণ নয়। এর জন্য দায়ী কোন প্রশ্ন  বা প্রথা নয়।

একজন নারী মা,একজন নারী, বোন, একজন নারী শ্বাশুড়ী, একজন নারী বউ, একজন নারী স্ত্রী।

মা হিসেবে একজন নারী তার সন্তানকে সবার চেয়ে ভাল করে গড়ে তুলতে চান। তাই নেমে যান পাশের বাড়ির ভাবী বা বৌদির সাথে প্রতিযোগিতায়। শ্রদ্ধেয়  মায়েরা দয়া করে সুস্থ্য প্রতিযোগিতায় নামুন। অসুস্থ্য প্রতিযোগিতা আপনার জীবন, আপনার সন্তানের জীবনকে দূর্বিষহ করে তুলবে। সন্তানের বাবা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আয় রোজগারের জন্য বাইরে থাকেন। মায়েরা ও অনেকে কর্মজীবী আবার অনেকে গৃহিনী। যারা গৃহিনী তারা একজন কর্মজীবী  মহিলার চেয়ে কম কর্ম সাধন করেন না। তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য  করার কিছু নেই। তবে সন্তানের দায়ভারটা যেন একজন নারীরই। কোন ক্রমে একজন সন্তান ব্যর্থ হলে সব দোষ মায়ের। ভাল হলে পুরোটাই বাবার। তারপর ও সন্তানের দায় দায়িত্ব নারী বা মায়েদেরই পালন করতে হয়। এত বড় দায়িত্ব উদাস হলে হবে না।

মায়েদের পাশাপাশি অবশ্যই বাবাদের এগুরু দায়িত্ব অংশ গ্রহন থাকা আবশ্যক। বাবা শুধু আয় রোজগারে মনোনিবেশ  করবেন তা মোটেও সমীচীন নয়।মা বাবা দুজনই সন্তানের অভিভাবক।

কেন বললাম কথা গুলো সে প্রসঙ্গে কিছু কথা বাস্তব অভিজ্ঞতা কথা বলছি। একজন মা তার সন্তানকে খাইয়ে পড়িয়ে প্রতিষ্ঠানে পাঠান কিন্তু সাংসারিক অন্য কাজের জন্য আর খোঁজ নেয়ার সময় পান না প্রতিষ্ঠানে পৌঁছল কি না। বিশেষ করে গ্রামীণ  ও মফস্বল এলাকায়। বাবারা মনে করেন এটা মায়ের দায়িত্ব। কিন্তু সন্তানের জীবন যখন দূ্বিষহ হবে তখন কি সাথে শুধু মায়েরটাই হবে?

সম্মানিত অভিভাবক দুজনের প্রচেষ্টার একান্ত প্রয়োজন। সন্তান প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পর দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের। যাওয়া আসার পথে নয়। পুরোটা নজরদারী করা সম্ভব নয়। ব্যাতিক্রম হতে পারে তবে সর্বক্ষেত্রে নয়।

সন্তান বাড়িতে যথাসময়ে ফিরে আসছে কি না তা অনেক অভিভাবক নজরে রাখেন না। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে। এরপর যদি কোন সন্তানের জীবন দূর্বিষহ হয়ে পড়ে এর জন্য তবে কি দায়ী করবো কোন প্রথা কে?  দায়ী করবো কোন নারীকে? দায়ী করবো প্রতিষ্ঠান প্রধান কে? দায়ী করেই বা লাভ কি? কু সন্তানের দায়ভার সবাইকে বয়ে বেড়াতে হবে। সে কু-সন্তানের  জন্য কলুষিত  হচ্ছে সমাজ, কলুষিত  হচ্ছে দেশ বা রাষ্ট্র।

আমরা শিক্ষক সমাজ চাই না কলুষিত  কোন কিছু। স্বাধীনতার  ৪৮ বছর পর এ কথা শুনতে দুঃখ হয়, কষ্ট হয়।

প্রতিষ্ঠান  মোটিভেট  করার জন্য নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করে। কিন্তু তাতে ও বাধা।

প্রত্যেক অভিভাবককে খোঁজ রাখতে হবে সন্তান কার সাথে কোথায় যাচ্ছে, কি খাচ্ছে,কি করছে। কোন সন্তানই একদিনে খারাপ হয়ে যায় না। তাই তাদের  যথাযথ  গাইড  করা আবশ্যক। সন্তান মানুষের মত মানুষ না হলে পর্বত সমান সম্পদ বোঝা মনে হবে।সন্তানরা কলেজ লাইফে বা ভার্সিটি  লাইফে জীবনকে বা বাস্তবতাকে যেভাবে উপলদ্ধি করে স্কুল  লাইফে সেভাবে করে না। স্কুল লাইফে আবেগ আর কৌতুহলে ভরপুর থাকে মন। রবী ঠাকুর বলেছিলেন “তের চৌদ্দ বছরের মত বালাই আর নাই”।এ সময় আবেগ আর কৌতুহলের বশবর্তী  হয়ে অনেকে নানা ধরনের খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে। যখন বুঝে তখন আর শোধরানোর সময় থাকে না। তাই এই সময়টা অভিভাবকদের বন্ধু হয়ে কাছে থাকা আবশ্যক।

প্রতিদিন খাবার দেয়ার মত অভিভাবক গনের উচিৎ  সন্তানের স্কুল  ব্যাগটা একবার চেক করা,রাতে যতক্ষণ পড়াশুনা করে ততক্ষন পাশে থাকা, স্কুলে পৌছলো কি না, যথাসময়ে ফিরলো কি না, খাওয়া দাওয়া ঠিক ভাবে করছে কি না, পরীক্ষার ফলাফল কি তা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা, প্রতিষ্ঠানে ৭দিনে না হোক ১৫দিনে হলে ও একবার খোঁজ নেয়া প্রয়োজন।

সন্তানকে প্রত্যেক বাবা মা ই ভালবাসেন এটা স্বাভাবিক, প্রত্যেকে বিশ্বাস  করেন এটাও স্বাভাবিক । কিন্তু অধিক ভালবাসার বহির্প্রকাশ, অধিক বিশ্বাস মোটেও সমীচীন  নয়। বিশেষ করে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগাতে হবে।?

হতাশা, আত্নহত্যা, দূর্বিষহ জীবন নয়। সত্য, সুন্দর  মঙ্গলময় হয়ে উঠুক প্রত্যেকের  জীবন।

লেখক: আনোয়ারা নীনা

প্রধান শিক্ষক
হালিমুন্নেছা চৌধুরাণী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ভালুকা, ময়মনসিংহ।
Print Friendly, PDF & Email