|

ভালুকার পরিশ্রমী ও মানবিক পুলিশ সার্জেন্ট আকরামুল রাজিব

প্রকাশিতঃ ২:৩৫ অপরাহ্ণ | জুন ০২, ২০১৯

সুুজিত মিত্র, স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে নিয়মিত চলাচলকারী পরিবহন সেক্টরে পরিশ্রমী ও মানবিক পুলিশ সার্জেন্ট হিসেবে সুপরিচিত আকরামুল রাজিব। দীর্ঘদিনের কর্ম এলাকা হিসেবে পরিবহন স্টেক্টরের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন মহলের সাথে সুখ্যাতি রয়েছে রাজিবের। ডিউটি টাইম শেষে ব্যাচেলর এই পুলিশ সার্জেন্ট আড্ডায় মেতে উঠেন স্থানীয় বন্ধুমহলের সাথে। অপরিচিত কেউ ওই আড্ডায় উপস্থিত হলে বুঝতেই পারবেন না যে, এগুলো রাজিবের ক্ষণিকের কর্ম এলাকার পরিচিত বন্ধু মাত্র।

তাছাড়া এই পুলিশ সার্জেন্টের বিচরণ রয়েছে ভালুকা বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অভ্যুদয়ের সাথে জড়িত হয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদানসহ সমাজসেবামূলক কাজে প্রায়ই দেখা মেলে রাজিবের। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নেওয়া আকরামুল রাজীবের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা মাঠখোলা গ্রামে। স্কুল শিক্ষক বাবার ৪ বোন ও ৩ ভাইয়ের মাঝে সবার ছোট রাজিব।

অল্প সংখ্যক পুলিশ ট্রাফিক সার্জেন্টের নেতিবাচক কর্মকান্ডের কারণে অনেকের বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে সরকারের এ সংস্থার প্রতি। কিন্তু মহাসড়কে যানবাহন চালানোর সময় যাঁরা বিভিন্ন কারণে সার্জেন্ট রাজিবের আইনের চোখে পড়েছেন তাদের কিছুটা হলের ‘ট্রাফিক পুলিশ’ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা হয়েছে। বন্ধুসুলভ আচরণেও যে আইনভঙ্গকারীকেও আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া যায় তা প্রমান করতে সক্ষম হয়েছেন রাজিব। সদা হাস্যোজ্জল এ পুলিশ সার্জেন্ট বিরুদ্ধে সামান্য বিষয়ে কাওকে হয়রানী করার অভিযোগ নেই।

ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট আকরামুল রাজীবের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘জীবিকার প্রয়োজনেই এই চাকুরীতে আসা, সাধারন মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আর পুলিশের মধ্যে অবহেলিত ট্রাফিক বিভাগে কাজ করাটা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। রোদ-বৃষ্টি, ধূলা-বালি আর বিকট শব্দের মধ্যে কাজ করেও আমাদের ধন্যবাদ পাওয়ার সৌভাগ্য হয়ে উঠেনা। নেতিবাচক কথা শুনাটা যেন আমাদের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। লক্ষ লক্ষ টাকার গাড়িতে ফিটনেস বা যথাযত বৈধ কাগজপত্র না থাকায় শাস্তিমূলক জরিমানা যা সম্পূর্ণটাই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়, তা মেনে নিতে পরিবহন সংস্লিষ্ট ব্যক্তিদের তোপের মুখে পরতে হয় আমাদের। অবৈধ স্থানে পার্কিং, হেলমেট বিহীন বাইক চালনা, ব্যক্তিগত ঝুঁকিপূর্ন ভাবে রাস্তায় চলাচলের অপরাধেও জরিমানা মেনে নিতেও কষ্ট হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

জনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তির প্রভাব সর্বোপরি আইন না মানার একটা প্রবনতা সমাজের আনেকের মাঝেই রয়েছে। হাজারটা সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেই আমাদের চলতে হয়। স্বপ্ন দেখতে হয়, স্বপ্ন দেখাতে হয় সত্য ও সুন্দরের। যাঁর যে দায়িত্ব তা সঠিক ভাবে পালন করার নামই নৈতিকতা। আমি আমার ক্ষুদ্র অবস্থান থেকে মানুষ ও মানবতার জন্য সবসময় চাই ভালো কিছু করতে। ভালো মানুষগুলো যেন ভালো থাকে, মানবতার যেন জয় হয়। সকলের আন্তরিক চেষ্টায় সম্ভব সুন্দর সমাজ, সুন্দর দেশ গঠন’।

Print Friendly, PDF & Email