|

দাবি আদায়ে ঢাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, ভোগান্তিতে ভালুকা পৌরসভাবাসী

প্রকাশিতঃ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৮, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্ট, ভালুকার খবর: রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন সারা দেশের পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সর্বশেষ গত রবিবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাবি আদায়ের জন্য পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান নিয়েছেন। ফলে টানা পাঁচ দিন ধরে সেবা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভালুকা পৌরসভাসহ দেশব্যাপি সকল পৌরসভার বাসিন্দারা।

জানা যায়, তারা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন-ভাতাসহ পেনশন চান। এ জন্য তারা পৌরসভার সকল সেবা বন্ধ রেখে আন্দোলনে নেমেছে। এখনও আন্দোলন চলছে। তাদের এই আন্দোলনে পৌরসভার বাসিন্দাগণ একত্বতা প্রকাশ করলেও সেবা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরসভার বাসিন্দারা। দেশের ৩২৮টি পৌরসভায় ৫দিন ধরে দাপ্তরিক ও সকল ধরনের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

টানা পাঁচদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় পৌর এলাকার অলিগলিতে জমেছে ময়লার স্তুপ। সড়কবাতি জ্বলছেনা সময়মত। কর সংগ্রহ, নাগরিক সনদ প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেবাগ্রহীতারা সেবা নিতে এসে কাজ না করেই ফিরে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, সারা দেশের পৌরসভায় স্থায়ী ও মাস্টাররোল মিলিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারী আছেন ৩৫ হাজারের বেশি। সরকার ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় দেশের পৌরসভাগুলোর বেতন-ভাতা খাতে ১৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছিল, যা চাহিদার এক শতাংশের কম। পৌরসভার নিজেদের আয় নেই, সরকারও পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয় না। আর এ জন্য কর্মীরা ও বিশেষ করে যারা মাস্টার রোলে কাজ করেন ঠিক মতো বেতন ভাতা পান না।

বৃহস্পতিবার ভালুকা পৌরসভার সভাপতি রিগান খান তাঁর ফেসবুকে সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন ও সহকর্মীদের সাথে নিয়ে দুটি ছবি আপলোড করেছেন। এতে ক্যাপশনে লিখেছেন “বসে আছি প্রেসক্লাবের সামনে, দাবি আদায় করেই ফিরবো”। তাঁর সাথে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা পাওয়া আমাদের অধিকার, আমাদের আন্দোলন চলমান রয়েছে, দাবি আদায় না করা পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবোনা। আমাদের দৃঢ বিশ^াস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি অতি দ্রুতই মেনে নিবেন”।

পৌর এলাকার বাসিন্দা কবি ও শিক্ষক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “পৌরসভার সকল ধরনের সেবা বন্ধ থাকায় আমরা বেশ ভোগান্তিতে পড়েছি, বিশেষ করে এলাকার অলিগলিতে জমেছে ময়লার স্তুপ, যা থেকে বের হচ্ছে উদ্ভট পাঁচা দূর্গন্ধ। আমরা চাই অতি দ্রুতই এটার একটা ফয়সালা হওয়া দরকার”।

Print Friendly, PDF & Email