|

আমার দেখা মেজর আফসার উদ্দিন আহমেদ ও উনাকে নিয়ে কিছু স্মৃতি…

প্রকাশিতঃ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

আলহাজ্ব জাকির হোসন শিবলী:

আমি তখন ভালুকা উপজেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক, বর্তমান এমপি সাহেব উনার সুযোগ্য সন্তান তখনকার ভালুকা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জনাব কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু সাহেবের আস্থাভাজন ও কাছের মানুষ ছিলাম বলে উনার বাসায় ঘনঘন যেতাম এবং পরিবারের একজন সদস্যর মতোই ছিলাম। যে কারণে উনি আমাকে খুব আদর করতো একজন অভিবাবকের মতো ছিলেন। উনি তখন উপজেলা চেয়ারম্যান থাকতেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসভবনে প্রতি রাতেই কমপক্ষে একবার উনার বাসায় যেতাম। একদিন রাতে তখন আনুমানিক রাত ৮/৯ টা বাজে আমি এবং বন্ধু আকরাম বর্তমান মল্লিকবাড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বর্তমান এমপি সাহেব তখনকার ভালুকা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জনাব কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু সাহেব কে খুঁজতে উনার বাসায় যাই, ধনু কাকা তখন বাসার ভিতরে ছিলো আমরা দুইজন বাসার দ্বিতীয় তলায় উঠলাম আমাদের দেখে উনি (মেজর সাহেব) বসতে বললেন আমরা বসলাম সাথে উনার সহধর্মিণী এমপি সাহেবের মাতা বসা ছিলেন।

আর তখনই দেখার সুযোগ হলো অগ্নি প্রকৃতিক চেহারা সে যেন ৭১সনের যুদ্ধের চেহারায় রূপ নিলো। সিড়ি দিয়ে তিনজন লোক উপরে উঠতে লাগলো একজন তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সদ্য সাবেক সচিব মোজাম্মেল হক খান আরেকজন মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাইস চেয়ারম্যান খলিল সাহেব, তাদের সাথে একজন সাবেক কমান্ডারও ছিলো। আর সেই কমান্ডার কে দেখেই উনি রেগে চিৎকার করে কুত্তার বাচ্চা বলে গালি দিয়ে কমান্ডারের বুকে সজোড়ে লাথি দিতে দিতে সিড়ি থেকে ফেলে দিলেন এবং বন্দুক হাতে নিলেন গুলি করবেন বলে তখন আমরা উনার সামনে গিয়ে উনাকে শান্ত করেছিলাম আর সেই ঘটনার স্মৃতি বহন করার সৌভাগ্য একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে আমার হয়েছিল। এবং উনি জীবিত অবস্থায়ই সেই কমান্ডার কে ক্ষমা করে নাই। আর সেই কমান্ডার সাহেব কে ২৬ বছর পর আজ অন্য রূপে দেখে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে এবং ঘটনার সাক্ষী হিসাবে কষ্টও পেলাম।

আরেকদিনের স্মৃতি ১৯৯২ সাল বিএনপি ক্ষমতায় তারা আইন করলো এসএসসি পরীক্ষায় অবজেক্টিভ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে শুরু হলো আন্দোলন বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি ভাংচুর তারপর থানার আমাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হলো বাসায় পুলিশ আসলো কোনো কিছু উপায় না দেখে আমরা গেলাম আফসার মেজর সাহেবের কাছে উনি শুনেই রেগে চিৎকার করে বললেন চল থানায় যাই আমরা বললাম আমরা আসামি উনি রেগে বললেন আমার সাথে চল তখন সাহস পেলাম আমরা কয়েকজন উনার সাথে থানায় গেলাম তাদের মধ্যে আমার সাথে তখনকার ছাত্রলীগের নেতা বর্তমান উপজেলা যুবলীগের নেতা আশরাফুল আলম পাপ্পু ছিলো।

ওসি ছিলো এম এ করিম সাহেব আমরা ওসি সাহেবের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভিতরে গেলেন উনি মানে আফসার মেজর সাহেব, ওসি সাহেবের সামনে বসলেন জিজ্ঞেস করলেন কেনো আমাদের বাসায় পুলিশ গেলো, ওসি বললো তার কৈফিয়ত কি আপনাকে দিতে হবে?

আর তখনই আবার দেখার সুযোগ হলো অগ্নি প্রকৃতির সেই চেহারা উনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং চিৎকার করে বললেন কুত্তার বাচ্চা শোয়ারের বাচ্চা তুর বাবারা যদি যোদ্ধ না করতো তাহলে তুই এই চেয়ারে বসতে পারতিনা এবং ওসিকে হুমকি দিয়ে বলে আসলেন আমাদের বাসায় পুলিশ যেন আর না আসে। তারপর আর পুলিশ আসলোও না।যাইহোক উনি যখন মৃত্যুবরণ করেন আমি সেদিন উনার সন্তান বর্তমান এমপি সাহেব আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু সাহেবের সাথে ত্রিশালে মতিয়া চৌধুরীর জনসভায় ছিলাম এবং ঐ জনসভায় যাওয়ার আগে উনার বাসায় গিয়ে ধনু কাকাকে যখন আনতে যাই তখন বিদায় নেওয়ার সময় উনি আমাকে বলেছিলেন সাবধানে যেতে এবং মাথায় হাত দিয়ে আদরও করেছিলেন। উনার মৃত্যুর সংবাদ শুনে আমি ও ধনু কাকা আবার একই হোন্ডা দিয়ে এসে দেখতে পেলাম উনার লাশ তখন কান্নায় ভেঙ্গে পরলাম আর সেদিনেই বিদায় নেওয়ার সময় আমার মাথায় হাত দিয়ে আদর আমার আর উনার শেষ স্মৃতি। আজকের এই দিনে উনার ২৬ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি এবং আল্লাহ পাক উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা করে সেই কামনা করছি…

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, ভালুকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ।

(লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Print Friendly, PDF & Email