|

‘কাক ডাকা ভোর’ থেকে ‘মধ্যরাত’ পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ

প্রকাশিতঃ ৮:০৪ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৪, ২০২০

মো. আসাদুজ্জামান সুমন, ভালুকার খবর: ফজরের নামাজ আদায় করে গ্রামের গরীব দুঃখী মানুষের খোঁজ-খবর নেওয়ার পর সকালের নাস্তা করা, তারপর ব্যবসা ও পরিবারকে সময় দেওয়া। এমন রুটিনে তাঁর সময় অতিবাহিত হয়েছে ৮ বছর। স্বপ্ন ছিলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ইউনিয়নবাসীর দুঃখ-কষ্ট লাঘব করবেন। স্বপ্নবাজ এই সমাজসেবক আওয়ামী রাজনীতির সাথে সক্রিয় অংশগ্রহনের পাশাপাশি ইউনিয়নবাসীর পাশে থেকেছেন সুখে-দুঃখে।

আ‘লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার পর ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের কর্মী-সমর্থকের পরামর্শে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়। দলের হাইকমান্ডের সমঝোতায় ও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানষিকতার কারণে ‘বালি’ পরে চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্নে। দৃঢ় আতœপ্রত্যয়ী, প্রজ্ঞাবান, জনসেবার ইচ্ছাশক্তি ও একাগ্রতার ফসলে আজ তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নয়, ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

বলছিলাম শিল্পসমৃদ্ধ ভালুকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদের কথা।

২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। দায়িত্ব পাওয়ার পর ‘কাক ডাকা ভোর’ থেকে ‘মধ্য রাত’ পর্যন্ত সময় দিচ্ছেন উপজেলাবাসীকে। কর্মচঞ্চল, বিনয়ী নেতৃত্ব, মেধা, অধ্যবসায় ও দূরদর্শীতার কারণে ভালুকাবাসীর শ্রদ্ধা ও আস্থার পাত্র বনেছেন ইতোমধ্যে। মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল, সমাজকর্মী, স্বেচ্ছাসেবীসহ সকল সেক্টরেই তাঁর সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা সর্বজনবিদিত।

স্কুল শিক্ষক বাবার সন্তান হিসেবে গোটা উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি বিশেষ নজরদারীর কারণে আবুল কালাম আজাদকে ‘শিক্ষানুরাগী’ ক্ষেতাবে ভূষিত করেছেন উপজেলার শিক্ষক সমাজ। তাঁর বাবা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নিজের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাগণের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। তাছাড়া, মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী সংগঠক সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর আফসার উদ্দিন আহাম্মদের মেয়ের জামাই হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাগণের প্রতি আবুল কালাম আজাদের ‘এক্ট্রা কেয়ার’। মুক্তিযোদ্ধাগণকে সম্মান জানাতে তিনি উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত চেয়ার’ স্থাপন করেছেন।

সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম আবুল কালাম আজাদ স্থানীয় হতদরিদ্র মানুষের উন্নয়নের নিরন্তর প্রয়াস উপজেলার সব মহলেই প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নে কঠোর দৃষ্টি, উপজেলার রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার প্রতি বিশেষ নজর, সামাজিক উন্নয়নসহ ‘দায়িত্বশীলতার’ স্বাক্ষর রাখায় বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ‘সফল উপজেলা চেয়ারম্যান’ হিসেবে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। আবুল কালাম আজাদ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগেও মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে সদাহাস্যোজ্জ্বল, নিরহংকারী ও সাদা মনের মানুষ হিসেবে দলমত নির্বিশেষে কাজ করে তিনি এখন গোটা উপজেলাবাসীর সর্বজন শ্রদ্ধেয়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তাঁর দিন শুরু হয় ফজরের নামাজের পর, আর শেষ হয় মধ্য রাতে। তিনি সকালে হাঁটাহাটি করে এলাকার মানুষের অসুবিধা বা সমস্যার কথা শুনেন। তারপর নাস্তা করে বাসা থেকে বের হন। অফিসের বাইরে জরুরী মিটিং না থাকলে যথা সময়ে অফিসের দাপ্তরিক কাজ করেন। আলাদা আলাদা করে সেবা নিতে আসা উপজেলাবাসীর কথা শুনে সমাধানের চেষ্টা করেন। সরকারী প্রকল্প পরিদর্শন, সরকারী-বেসরকারী মিটিং, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, ধর্মীয় সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণসহ নানা মানুষের উৎসব-পার্বণের দাওয়াত রক্ষা করে মধ্য রাতে বাসা ফেরা এখন তাঁর অঘোষিত রুটিন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর পরিবারকে সময় দিতে না পারার কারণে মাঝে মধ্যে স্ত্রী-সন্তানকে সাথে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তিনি। পারিবারিক ভাবে জনসেবার মানষিকতা গড়ে তুলতেই সন্তানদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নেতৃত্ব মহান আল্লাহর দান। আল্লাহ আমাকে পছন্দ করেছেন বলেই আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। আমি মনে করি সফলতা অর্জন করার চেয়ে সেই সফলতা ধরে রাখা কঠিন। আমাকে ভালুকাবাসী বিশ^াস করে তাদের পবিত্র আমানত প্রদানের মাধ্যমে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এখন তাদের ওই বিশ্বাস ও আস্থার মর্যাদা রাখাই আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমার নেত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দিন রাত পরিশ্রম করছেন দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে। আমি মাননীয় নেত্রীর একজন বিশ্বস্থ সৈনিক হিসেবে সরকারের সকল প্রকল্পের সঠিক ব্যবহার করে ভালুকাবাসীর সেবা করতে সবসময়ই প্রস্তুত। আমি আমার দায়িত্ব পালনের জন্য সকল শ্রেনী পেশার মানুষের সহযোগীতা ও দোয়া চাই’।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী উপজেলা যুবলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শেফালী আফরোজ বলেন, ‘ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি স্বামীকে সহযোগীতা করে ‘সমৃদ্ধ ভালুকা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের কাছ থেকে ভোট এনেছিলাম। এখন জনগণের পবিত্র ওই আমনতের সঠিক ব্যবহার করাই আমাদের একমাত্র কাম্য। আমার বড় ভাইকে সংসদ সদস্য ও স্বামীকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করায় ভালুকাবাসীর প্রতি আমরা চির কৃতজ্ঞ। আমি রাজনৈতিক বাবার সন্তান হিসেবে স্বামীকে সর্বাত্বক সহযোগীতা করার চেষ্টা করি সবসময়।

বড়চালা হুসাইনিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার শেখ মো. খাইরুল বাশার বলেন, ‘এমন একজন শিক্ষানুরাগী উপজেলা চেয়ারম্যান পেয়ে আমরা খুব গর্বিত। তিনি অকস্মিক ভাবে মাঝে মধ্যেই আমাদেও স্কুল পরিদর্শেনে চলে আসেন। এতে আমরা উনার প্রতি বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ। শিক্ষা ব্যবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়ের বিশেষ নজরদারীতে গোটা উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার মানের আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।’

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল হোসেন খাঁন মিলন জানান, ‘আমরা নিস্বার্থভাবে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। তখন আমরা কোনকিছু পাওয়ার আশায় জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করিনি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মানুষের সম্মান পেলে গর্ববোধ হয়। আমাদের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ তাঁর কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাতে লাল কাপড়ে বেষ্টিত একটি সংরক্তিত চেয়ার স্থাপন করেছেন। অফিসটাতে প্রবেশ করার পর গর্বে বুকটা ভরে যায়। চেয়ারম্যানের এমন ব্যাতিক্রমি উদ্যোগ ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য আমি আপ্লুত। আমি আল্লাহর কাছে তাঁর সম্মান বৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন ধনু বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ একজন সৎ, পরিশ্রমি, কর্মীবান্ধর নেতা। কাজের প্রতি সে যথেষ্ট অন্তরিক। সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত সে মানুষের ডাকে ছুটে যায়। আমি তাঁর সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করি।’

Print Friendly, PDF & Email