|

‘ফাউল’ কথা বলেই লাইমলাইটে আসার ‘অপকৌশল’ চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর!

প্রকাশিতঃ ১১:২০ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৮, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভালুকার খবর: ঠিক যেন সাত বছর আগের সময়টিতেই ফিরে গেলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। তবে এবার রীতিমতো যেন পল্টি নিয়েছেন।

উধোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়েছেন। ‘ফাউল’ কথা বলেই লাইমলাইটে আসার ‘অপকৌশল’ নিয়েছেন।

ঢাকার সাভারের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৭ দিন পর পোশাককর্মী রেশমা বেগমকে উদ্ধারের প্রশ্নজাগানিয়া ঘটনার রেশ ধরেই যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় ট্যাবলয়েড মিরর-এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টিকে ‘ধোঁকাবাজি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
অথচ সেই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানাতেই ২০১৩ সালের ৩ জুলাই (বুধবার) বিকেলে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে সেই সময়কার নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হাসান সারওয়ার্দী বলেছিলেন, ‘সেনাবাহিনীকে নিয়ে ফাউল খেলবেন না।

অনেক সময় ফাউল খেললে আঘাত নিজের গায়ে এসে লাগার সম্ভাবনা আছে।’
সত্যি সত্যিই এবার নিজেই ‘ফাউল’ খেলেছেন চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। ফলশ্রুতিতে তাঁর গায়েই আঘাত এসে লেগেছে। নিজের ৪০ বছর আগের শপথ তিনি ভঙ্গ করেছেন।
নিজ বাহিনীর ‘ইমেজ’ ধূলোয় মিশিয়ে দেওয়ার মিশনে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সঙ্গে গোপন দফারফার মাধ্যমে সরকার ও সেনাবাহিনী নিয়ে চরম মিথ্যার বেসাতি করে বেড়াচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত এই লেফটেন্যান্ট জেনারেল।

রাষ্ট্রদ্রোহ এক মামলার দেশ থেকে পলাতক আসামির উপস্থাপনায় কথিত অনলাইন টকশো’র নাম করে তিনি সরকার বিরোধী ‘খিস্তিখেউর’ করে বেড়াচ্ছেন। মিথ্যা প্রচার প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির কৌশল নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারেরও অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

স্পর্শকাতর নানা বিষয়ে অপপ্রচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও লঙ্ঘন করেছেন।

রানা প্লাজা ইস্যুতে নিজেকে বারবার ‘হিরো’ মনে করলেও সাত বছর পর পুরোপুরি যেন ভোল পাল্টেছেন নারী কেলেঙ্কারী ও সেনা শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে দেশের সব সেনানিবাসে ‘অবাঞ্চিত’ এ সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

কথিত অনলাইন টকশোতে রানা প্লাজার রেশমা উদ্ধারের ঘটনাকে যখন উপস্থাপক সরাসরি ‘নাটক’ বলে হাসি-ঠাট্টা করেন তখন সেই সময়ে নেওয়া নিজের ক্রেডিট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার অপকৌশলও গ্রহণ করেছেন চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী।

চাকরি থেকে স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত নিজের নানা অপকীর্তির মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে দাঁড় করানোর এ কুশীলব মহান মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনা লালনকারী সেনাবাহিনীতে প্রতিবেশী একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাবের ভিত্তিহীন ও বানোয়াট গালগল্পের মাধ্যমে প্রকারান্তরে নিজের সেনাপ্রধান হতে না পারার যন্ত্রণায় অসত্য ও মিথ্যাচারের পসরা সাজাচ্ছেন।

সূত্র মতে, রেশমা ইস্যুতে সাত বছর আগের সংবাদ সম্মেলনে জিওসি চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী ‘সানডে মিরর-এর ওই সাংবাদিক এবং তাঁকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন।

সেদিনের তাঁর সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের জেরেই বেশ কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা কালের আলোকে বলেন, ‘সেদিন ক্ষতিপূরণ মামলা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন জিওসি হাসান সারওয়ার্দী।

একইভাবে এখন রেশমাকে উপস্থাপকের সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়ে ‘নাটক’ বলে সায় দেওয়ায় তার বিরুদ্ধেও মামলা হওয়া উচিত।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ‘নিজে ৪০ বছর সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ পদবী বহন করে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার পরেও কথিত অনলাইন টকশোতে নিজের অর্বাচীন বক্তব্যের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন।
স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির সঙ্গে প্রকাশ্যে গাঁটছড়া বেঁধেছেন। ঢালাওভাবে সেনাবাহিনীকে নিয়ে মিথ্যাচারের মাধ্যমে বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান প্রতিটি সদস্যের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। এ কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এখন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

সূত্র মতে, বিএনপি-জামায়াত চক্রের মিডিয়া উইংয়ের প্রপাগান্ডার দায়িত্বে রয়েছেন কথিত সাংবাদিক কনক সারওয়ার। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ইটিভির চেয়ারম্যান আবদুস সালামের ওই সময় স্বীকারোক্তির পরিপ্রেক্ষিতেই কনক সারওয়ারকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর বিএনপি’র পলাতক জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কনক সারওয়ারসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানার এসআই বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন।

এদিকে, সেনাবাহিনীকে নিয়ে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর পরিকল্পিত মিথ্যাচারের ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি নিন্দা জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা। জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারে তারা নিন্দার ঝড় তুলেছেন।
বিশেষ মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সতের কোটি বাংলাদেশীর গর্ব ও অহংকারের সেনাবাহিনীকে নিয়ে ঢালাও কুৎসাচার করায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর পিন্ডি চটকাচ্ছেন তারা। তাকে ঘিরে সবার মাঝেই তৈরি হয়েছে ঘৃণা এবং ক্ষোভের।

দেশপ্রেমিক সাবেক সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, ‘অর্থের লোভে নিজের নীতিবোধ বিক্রি করেছেন হাসান সারওয়ার্দী। তাঁর মতোন অনৈতিক ‘চরিত্রহীন’ একজন মানুষের পক্ষে সবই সম্ভব। লম্পটের নীতি বাক্য আদতে ভূতের মুখে রাম নাম’।

Print Friendly, PDF & Email