|

পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পাল্টাচ্ছেন মানবিক ওসি মাইন উদ্দিন

প্রকাশিতঃ ৮:৫৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

মো. জাহিদুল ইসলাম খান, বিশেষ প্রতিবেদকঃ প্রবাদে আছে বাঘে ছুলে আঠারো ঘা, আর পুলিশ ছুলে ছত্রিশ! কিন্তু ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার অনন্য পুলিশিং বদলে দিচ্ছে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা। আর এ বদলে যাওয়া থানার কারিগর ভালুকা মডেল থানার ওসি মাইনউদ্দিন। যিনি ভালুকা মডেল থানায় বিগত দেড় বছর আগে যোগদান করেছেন।

রবিবার ভালুকা থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানার সীমানা প্রাচীরসহ বিভিন্ন জায়গায় লেখা আছে পুলিশই জনতা জনতাই পুলিশ। থানার প্রধান ফটকের পাশেই বাইরে কাঁচের ঘেরা ঘরে রয়েছে ডিউটি অফিসারের রুম। আগে যা ভিতরে ছিলো। রয়েছে ছাওনী যেগুলো থানায় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আগত মানুষের সেবা ছাওনী হিসাবে পরিচিত। থানার মূল ফটকের ভিতরে রয়েছে নারী,শিশু,বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা সার্ভিস ডেস্ক। এক সময় অনেকের বিরক্তির কারণ ছিলো এই থানা প্রাঙ্গন। সাধারণ মানুষের জটলা লেগে থাকার পাশাপাশি পরিবেশ ছিল নোংরা, বর্তমানে মানুষের জটলা নেই। সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের প্রাপ্য সেবা গ্রহণ করে চলে যাচ্ছেন। ওসি মাইনউদ্দিন বিগত দেড় বছরে ভালুকা উপজেলার অসহায় বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এরই মধ্যে মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন।

শুরু থেকেই উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজ হাতে করোনায় আক্রান্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরন করছেন। অসহায়, অস্বচ্ছল, ভিক্ষুকদের ইউনিয়নে ইউনিয়নে খোঁজে খোঁজে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। উথুরা ইউনিয়নের হাতিবের এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তির টাকায় কেনা বৃদ্ধার বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করে তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। পরিত্যক্ত বারান্দায় প্রসব করা সন্তানসহ মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের চিকিৎসা ব্যবস্থা সহ তার ঠিকানা বের করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন। করোনার প্রথম দিকে পৌর এলাকায় এক হতদরিদ্র পরিবারের বাসার ভাড়া নিজে পরিশোধ করে বাসায় থাকার ব্যবস্থা করেছেন। উপজেলার চাঞ্চল্যকর খুনের মামলাগুলো অতি দ্রুত রহস্য উদঘাটন সহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতিসহ ভালুকার মানুষের আস্থা অর্জন করে যাচ্ছেন।

ওসি মাইনউদ্দিন বলেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমি চেষ্টা করি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। যতদিন বেঁচে থাকবো মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবো। অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে আমি অনেক তৃপ্তি পাই।

Print Friendly, PDF & Email