|

মুক্তাগাছার তহুরাকে অনেকে মেসি বলে ডাকে

প্রকাশিতঃ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ১৭, ২০১৮

ডেস্ক রিপোর্ট, ভালুকার খবর: মেয়ে জন্মের পর যে সমাজ তাদের বোঝা মনে করে, সেই তথাকথিত সমাজই এখ তহুরা খাতুনকে এক নজর দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার ছোট্ট মেয়েটি এখন বাংলাদেশের ফুটবলের বড় তারকা। তহুরাদের জাদুকরী ফুটবলে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে একের পর এক সাফল্য পেয়ে আসছে বাংলাদেশ। দেশের মুখ উজ্জ্বল হচ্ছে। মেয়ের জন্য উজ্জ্বল হয়েছে বাবা ফিরোজ মিয়ার জীবনও।

সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এএফসি অনুর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলে গ্রুপ পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া মেয়েদের গত ১১ অক্টোবর গণভবনে সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি তারকা কিশোরীদের প্রত্যেকের হাতে ১০ লাখ টাকা তুলে দিয়েছেন। গরীব বাবার ৫ মেয়ের মধ্যে তহুরা দ্বিতীয়। সেই তহুরাকে নিয়েই এখন গর্ব করেন ফিরোজ মিয়া। পুরস্কারের ১০ লাখ টাকা দিয়ে জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তহুরাই নাকি বলেছিল, বাড়ির সামনের একখণ্ড জমি বাবাকে সে কিনে দেবে একদিন।

স্পনসর প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন অনুর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়ন হওয়া মেয়েদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি করে রেফ্রিজারেটর উপহার দিয়েছে। সেই পুরস্কার নিতে এসে মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘আমি চিল্লায় (তাবলিগ) গেছিলাম। এলাকার অনেক হুজুর বলতেন, আপনি চিল্লা করেন আর মেয়ে ফুটবল খেলে; এটা নাজায়েজ। আমি একদিন তহুরাকে বললাম, মা রে ফুটবলটা তোমার জন্য ভালো হইতেছে না। তুমি ফুটবল ছেড়ে দাও। তহুরা বলত, তুমি যদি না কর, আমি খেলা চালিয়ে যেতে পারব না। তুমি হুজুরদের বিশ্বাস কইরো না। মানুষ তো ভালো বলছে। এভাবেই তহুরা খেলা চালিয়ে যেত।’

ধর্মান্ধদের কুমন্ত্রণায় কান না দিয়ে মেয়েকে ফুটবল খেলায় উৎসাহ দিয়ে গেছেন ফিরোজ মিয়া। যার সুফল তিনি এখন ভোগ করছেন। মেয়ে এখন শুধু তার পরিবারের গর্ব নয়; গোটা দেশের গর্ব। আবেগাক্রান্ত তহুরার বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েকে অনেকে মেসি বইলা ডাকে। আমার অনেক ভালো লাগে। তহুরা এখন বাড়িতে গেলে মানুষ দেখতে আসে। আত্মীয়স্বজন ছুটে আসেন। আমার এর চেয়ে কী আর থাকতে পারে আনন্দের। ও যতদিন পারে ফুটবল খেলবে। আমি না করব না।’

Print Friendly, PDF & Email