|

পলাতক থেকেও সমালোচলা পিছু ছাড়ছেনা উপজেলা আওয়ামীলীগেরকমিটি বাণিজ্য ও বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগঃ নেট দুনিয়ায় তোলপাড়

প্রকাশিতঃ 9:16 pm | August 25, 2026

ত্রিশাল(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীন দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল লড়াই। ৫ই আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর সভাপতি সাধারন সম্পাদকের বিতর্কিত কর্মকান্ডে,হামলা মামলা গ্রেফতারের শিকার তৃনমুলের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের কর্মকান্ড নিয়ে ফেসবুকে বেশ সরব হয়ে উঠছে। ইউনিয়নের নেতারা জেলে থাকা অবস্থায় তাদের কমিটি ভেঙ্গে দেয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনুসকে অভিনন্দন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সভাপতির দুই মেয়ের ঝমকালো বিয়ের আয়োজন, কমিটি বানিজ্য করে শীর্ষ নেতারা কারাগারে থাকা অবস্থায় ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেন বা ‘কমিটি বাণিজ্যের’ অভিযোগ ওঠায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের অসন্তোষ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

সম্প্রতি ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি দীর্ঘদিন ডিএক্টটিভ থাকার পর সম্প্রতি চালু করলে দেখা যায় তিনি ৫ই আগষ্ট পতনের তিন দিন পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি বক্তব্য শেয়ার করা হয়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতার অ্যাকাউন্ট থেকে এমন পোস্ট ছড়িয়ে পড়তেই নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়।

এ বিষয়ে ইকবাল হোসেনের দাবি, তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে হ্যাক বা অপব্যবহার হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসার পরই তিনি তা নিয়ন্ত্রণ করেন এবং এটি কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নয়।
এদিকে গত ৩১শে মে আওযামীলীগের নেতাকমীরা জেলে ও পলাতক থাকলেও পৌরশহরের প্রাণ কেন্দ্রে নজরুল অডিটোরিয়ামে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালামের দুই মেয়ের রাজকীয় বিয়ের আয়োজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। দলের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী যখন বিভিন্ন মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে কোণঠাসা, তখন সহ¯্রাধিক অতিথিদের নিয়ে এমন জাঁকজমকপূর্ণ পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনকে অনেকেই ‘বিতর্কিত’ বলে মন্তব্য করছেন।

তবে সভাপতির আবুল কালাম বলেন পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ পারিবারিকভাবে বহু আগে থেকেই নির্ধারিত অনুষ্ঠান ছিল এবং এর সাথে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো যোগসূত্র নেই।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি ভাঙা ও নতুন কমিটি অনুমোদন। স্থানীয় সূত্র জানায়, বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ বাদল একাধিক মামলায় প্রায় বছর খানেক জেলে ছিলেন এরমধ্যে তার চেয়ারম্যান পদ থেকে বহিস্কার, বাড়ি ঘরে হামলা ব্যবসা প্রতিষ্টান লুটপাট,ছেলে আদনান একাধিক মামলায় জেলে থাকার পরেও ঐ ইউনিটকে সক্রিয় করার অযুহাতে কমিটি ভেঙ্গে দেয় উপজেলা আওয়ামীলীগ।

এছাড়াও হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ যখন রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন ঠিক তখনই এই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। নেতাদের অনুপস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্র পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে পলাতক আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ট্রেলিগ্রাম গ্রুপ সামাজিতক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
উপজেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা সুহেল মাহমুদ সুমন তার ভেরিফাইড ফেসবুক পোষ্টে লেখেন, আমরা দুবছর ধরে পলাতক। আমিাদের বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে। তৃনমুলের শতাধিক নেতাকর্মী জেলে। উপজেলা আওয়ামীলীগ তাদের খোজ না নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্যে জামায়াত বিএনপির সাথে আতাত করে এলাকায় থেকে নিজের পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক সব কর্মকান্ড চালিয়ে কমিটি বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি এই দুঃসময়ে তৃনমুলের পাশে থাকার জন্যে হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
জানতে চাইলে বালিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ বাদল মোবাইল ফোনে জানান, ৫ই আগষ্ট থেকে আমার সকল ব্যবসা প্রতিষ্টানে হামলা করে অফিস ভাংচুর করে। ৫ মামলায় ৬ মাস জেল খেটে কিছুদিন আগে জামিন পেয়েছি। আমার ছেলে তিন মামলায় এখনো জেলে। গত সপ্তাহে শুনেছি আমার ইউনিয়ন কমিটি ভেঙ্গে দিয়েছে। এতে আমি কিছু বলিনি। দল যাকে দিয়ে ভালো মন করবে তাকে দায়িত্ব দিবে তবে আমার জেল জীবন আর ব্যবসা ধবংস করা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ফিরিয়ে দিয়ে আমাকে অব্যহতি দিলে কষ্টটা কম পেতাম। এছাড়াও উপজেলা পৌরসভা ও বইলর ইউনিয়ন কমিটি বানিজ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে কোন মন্তব্য করেননি সংশ্লিষ্টরা।