|

ঈশ্বরগঞ্জে ভয় দেখিয়ে জমি রেজিষ্ট্রির অভিযোগ

প্রকাশিতঃ ১:৪৩ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক মৃত আমজাদ আলী মন্ডলের পুত্র নিরিহ মোঃ শফিকুল ইসলামে জমি রেজিষ্ট্রি করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ।

এ ঘটনায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর জেলা রেজিষ্ট্রার বরাবরে ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ও স্থনীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলার সাবরেজিষ্ট্রি কার্যালয়ে প্রভাবশালী দলিল লেখক আবু বকর সিদ্দিক সঙ্গবদ্ধ গোন্ডা বাহিনীর মদদে উপজেলার উজান চরনওপাড়া গ্রামের মৃত আমজাত আলী মন্ডলের ছেলে মো: শফিকুল ইসলামকে মারধোর করে গুরুতর আহত করে খুনের হুমকি দিয়ে নিজ নামিয় ক্রয় সূত্রে মালিকানাধী ৩০ শতাংশ জমি জোরপূর্বক রেজিষ্ট্রি করে নেয়।

ভূক্তভুগী মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, ভলিয়ম বিহিন ২০৫নং খতিয়ানে বিআরএস রেকর্ড সৃজন করে আমাকে দলিল দাতা বানিয়ে রেজিষ্ট্রি জবানবন্দিতে আমার অসমর্থন থাকা সত্ত্বেও সাব-রেজিষ্টার বে-আইনিভাবে ৮২৫নং দাগে বিগত ০৯/০৯/২০১৯ইং তিরিখে ৪০৩৪নং একখন্ড সাব কাবলা দলিল রেজিষ্ট্রি করেন। অভিযোগে আরও জানা যায়, শফিকুলের অপর ৩ ভাই অন্য দাগের ৫ শতাংশ ভূমি উজান চরনওপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বার সরকারের পুত্র কনস্টেবল নজরুল ইসলাম (বর্তমানে টাঙ্গাইল থানার কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত) এর সাথে দলিল সম্পাদন করা অবস্থায় দলিল লেখক আবু বক্কর সিদ্দিকসহ তার গুন্ডা বাহিনীর আরও ২০/২৫জন জোরপূর্বক শফিকুলের সর্বসাকুল্য জমিটুকু রেজিষ্ট্রি করে নেয়। ভুক্তভুগী শফিকুল ইসলাম সিদ্দিক বাহিনির মাধোরে আহত হয়ে ভালুকা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চারদিন চিকিৎসা শেষে মোঃ শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঈশ্বরগঞ্জ অঞ্চল আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলা নং- ৩৩৯/২০১৯, তারিখ ১৮/০৯/২০১৯ইং। সূত্র জানায়, রেজিষ্ট্রিকৃত ভূমির ২০৫নং খতিয়ান ভূক্ত বিআরএস রেকর্ডীয় মালিক মাজেদা খাতুন গং নিকট হতে গত ২৬/০৭/২০০৭ইং তারিখে ২৬৫৭ নং সাব কাবলা দলিল মূলে বর্ণিত ৩০ শতাংশ ভূমি মোঃ শফিকুল ইসলাম খরিদ করিয়া নিঃকন্ঠভাবে সরে জমিনে চাষাবাদ করিয়া আসিতে থাকা অবস্থায় ২০১৬(IX-I)১৫-১৬নং জমা খারিজ মোকদ্দমা মূলে ৩১০৫ খতিয়ানে উক্ত ৩০ শতাংশ ভূমি অদ্যাবধি পর্যন্ত ভোগ দখল করে আসছে।

দলিল লেখক আলামিন সনদ নং (৬৭৩১) বলেন আমি ভেবেছিলাম টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছে তাই শফিকুলকে কলারে ধরে নিয়ে এসেছি তাকে কোন প্রকার মারধোর করা হয়নি। অভিযুক্ত আবুবক্কর সিদ্দিক এ ঘটনা জানাজানির পর থেকে গা ডাকা দিয়েছে এবং বিভিন্ন লোক মারফত আপোষ মিমাংসার জন্য উঠেপরে লেগেছেন বলে ভুক্তভুগী শফিকুল ইসলাম জানান এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিদ্দিকের ০১৭১৩৫৪০৬০০ নাম্বারে বারবার ফোন করা হলে ও ফোন রিসিব না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি ।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রার হায়দার আলী জানান বিষয়টা আমি অবগত ছিলামনা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিৎ করে বলেন এহেন ঘটনার জন্য দলিল লেখকের বিরোদ্ধে আইন গত ব্যাবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা রেজিষ্ট্রার মো: লুৎফল কবীর। তিনি জানান, অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব বরাবরে একটি অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছেন নিরিহ মোঃ শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারবর্গ।

Print Friendly, PDF & Email