ভালুকায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
প্রকাশিতঃ ৫:৪৫ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮
স্টাফ রিপোর্ট, ভালুকার খবর: ভালুকা উপজেলার কাতলামারী ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মো: মোফাজ্জল হকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। রহস্যজনক কারণে ম্যানেজিং কমিটি না করে বিভিন্ন ভাবে প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষককে জিম্মি করে রাখায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক লেখাপাড়ার মান দিনকে দিন হ্রাস হতে চলেছে বলে সাবেক ম্যানেজিং কমিটির একাধিক সদস্য অভিযোগ করেছেন।
স্থাণীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়. উপজেলার কাতলামারী ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মো: মোফাজ্জল হক নিয়ম বর্হিভূত ভাবে নিয়োগ পাওয়ার পর একক সিদ্ধান্তে সার্বিক কাজ কর্ম করে চলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ম্যানেজিং কমিটি না থাকলেও এ ব্যাপারে তিনি কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যয়ের কোন হিসেব তিনি কাউকে দিতে রাজি নন। বেশ কয়েকজন শিক্ষক জাল জালিয়তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সরকারী সুযোগ সুবিধা নিয়ে শিক্ষকতা করে আসলেও রহস্যজনক কারণে ওদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বিনা কারণে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শহিদুল হকের বেতন তিন মাস ধরে বন্ধ রেখেছেন।
ফলে তিনি বর্তমানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। শিক্ষক শহিদুল হক অভিযোগ করেন, সুপার তার কাছে অহেতুক প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেয়ার দাবি করেন। কিন্তু তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তার তিন মাস ধরে বেতন বন্ধ করে রেখেছেন। এতে তার বৃদ্ধা মা ও পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই মাদ্রাসার কম্পিউটার না থাকলেও জালজালিয়াতীর মাধ্যমে কম্পিউটার পোষ্টে চাকরী নিয়েছেন মো: আলাউদ্দিন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। তার নিবন্ধন সনদসহ সার্বিক কাগজপত্রই জাল জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে। যে নিবন্ধন সনদটি (নম্বর-৩১৩০৮৭৫৪) দিয়ে চাকরী নিয়েছেন এবং সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন, তাতে তার পিতার নাম উল্লেখ আছে, আব্দুল মালেক গ্রাম-ভবানীপুর, উপজেলা সাধুগঞ্জ, জেলা-ঝিনাইদহ। অথচ তার পিতার নাম আব্বাছ আলী, গ্রাম-কাতলামারী, ভালুকা। তিনি ২০১৩ সালের জুলাই মাসে ওই জাল সনদ জমা দিয়ে এমপিওভূক্ত হন এবং বর্তমান সুপারকে মাসোহারা দিয়ে অদ্যবধি সরকারী ও প্রতিষ্ঠানের সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন।
তাছাড়া মাদ্রসার এবতেদায়ী শাখার প্রধান হোসনে আরাও একই সময়ে জালজালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ নিয়ে সুপারকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারী ও প্রতিষ্ঠানের সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত কম্পিউটার শিক্ষক আলাউদ্দিন জানান, তার সার্বিক কাগজপত্রের বিষয়ে সুপার সাহেব সব জানেন, উনিই আপনাদের সাথে কথা বলবেন। তাবে এবতেদায়ী প্রধান হোসনে আরার মোবাইলে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ না করায়, তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসা সুপার মো: মোফাজ্জল হক শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই শহিদুল হকের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া কম্পিউটার শিক্ষক আলাউদ্দিনের ও এবতেদায়ী শিক্ষক হোসনে আরার নিয়োগে জালজালিয়াতির বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন পূর্বক ঐতিহ্যবাহি প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন মাদ্রাসার সাবেক ম্যানেজিং কমিটির একাধিক সদস্য ও এলাকাবাসি।


