প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত, পেনশন পাচ্ছেন না ভালুকার পাঁচ বিধবা
প্রকাশিতঃ ৭:০৪ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২০, ২০১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক, ভালুকার খবর: সরকারি নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপন জারি থাকার পরও মাসিক পেনশন পাচ্ছেন না ময়মনসিংহের ভালুকার ‘শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের’ পাঁচ বিধবা স্ত্রী। যার ফরে তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত হওয়ায় বঞ্চিত হচ্ছেন শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের বিধবা স্ত্রীরা।
‘সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর পেনশনের পুরো টাকা যাঁরা তুলে নিয়েছিলেন, তাঁরাও মাসিক পেনশন পাবেন। শুধু তা-ই নয়, প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্টও (বার্ষিক বৃদ্ধি) পাবেন তাঁরা’। গত বছরের ৮ অক্টোবর এই সিদ্ধান্ত দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন (০৭.০০.০০০০.১৭১.১৩.০১৩.১৪.১১৮) জারি করেছিলো।
জানা যায়, অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলো। ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিলো, ‘শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী, অর্থাৎ যেসব সরকারি কর্মচারী পেনশনের পুরো টাকা তুলে নিয়েছেন, অবসরের তারিখ থেকে ১৫ বছর পার হলে তাঁরা আবার মাসিক পেনশন পাবেন। এমন সিন্ধান্ত থাকার পরও অজ্ঞাত কারণে ময়মনসিংহের ভালুকার পাঁচ সরকারি চাকুরীজীবির বিধবা স্ত্রীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
‘শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী’ প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক পৌর সদরের মৃত: মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রাথমিক স্কুলশিক্ষক উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের মৃত: আবুল হোসেন, প্রাথমিক স্কুলশিক্ষক মৃত: আব্দুল রাজ্জাক, হিসাব রক্ষক মৃত: খন্দকার আব্দুল বারী, প্রাথমিক স্কুলশিক্ষক মৃত: ইব্রাহিম খলিলুল্লার পরিবার সরকারের ওই ঘোষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
পৌর সদরের প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের বিধবা স্ত্রী মোছাম্মৎ উম্মে সালমা কল্পনা বলেন, আমার স্বামী ১৯৯৯ সালে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসরে যান। আমাদের অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী’ পরিবারদের পুনঃরায় মাসিক পেনশন পাওয়ার সুযোগ করে দেন। কিন্তু আমরা মাসের পর মাস সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘুরাঘুুরি করেও এর কোন প্রতিকার পাচ্ছিনা। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদয় দৃষ্টি আকর্শণ করছি।
প্রাথমিক স্কুলশিক্ষক উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের মৃত: আবুল হোসেনের স্ত্রী রওশন আরা বেগম বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে আমার স্বামী চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর পেনশনের পুরো টাকা তুলে নিয়েছিলেন। আমার স্বামী জীবিত থাকার সময় ও মৃত্যুর পর আমি পবিবার নিয়ে খুব কষ্ট জীবিকা নির্বাহ করছিলাম। গত বছর আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণার পর আমরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলাম কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আমরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এ টাকাটা পেলে আমরা খুবই উপকৃত হবো।
উপজেলা হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা, আব্দুল বাতেন মিয়া বলেন, ‘আমি ছোট পদে চাকুরী করি, এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে রাজি নই। আপনারা উর্ধতন কর্মকর্তাগণের সাথে যোগাযোগ করুন’।


