|

ভালুকার বিরুনীয়া-বোর্ড বাজার কাঁচা সড়কের বেহাল দশায় ২৩ বছর!

প্রকাশিতঃ ৪:২৬ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯

সারুয়ার হাসান (সজিব), স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ৫ নং বিরুনীয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে অবস্থিত গ্রামটির নাম কাইঁচান, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এই গ্রামের অনেক তরুণ মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং যুদ্ধকালীন সময়ে পাক বাহিনী দেশীয় রাজাকারদে সাহায্য নিয়ে গ্রামটিতে নিরিহ মানুষের উপর হত্যা, লুট, ও অগ্নিসংযোগের মতো জগণ্য বর্বরতা চালায় ।

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার করছে গ্রামটি কিন্ত পরিতাপের বিষয় দীর্ঘ দিন পার করা গ্রামটিতে এখনো উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। গ্রামটিতে রয়েছে ১ টি মাত্র সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেই কোন পাঁকা রাস্তা। তবে গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য একটি কাচাঁ রাস্তা রয়েছে। রাস্তাটি এখনো পাঁকা হয়নি যার ধরুন গ্রামের প্রায় ১৬০০০ হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বৃষ্টি হলে কাদা মাড়িয়ে স্কুল-কলেজে পড়ে- শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসীকে এই সড়কে চলাচল করতে হয়। ভোক্তভোগীদের অভিযোগ বিরুনীয়া ইউনয়িনরে বিরুনীয়া বাজার থেকে রাজৈ ইউনয়িনরে বোর্ড বাজার যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি কাঁচা। এটি পাঁকা করার দাবী দীর্ঘ ২৩ বছররে।

বৃষ্টি হলে এ রাস্তায় চলাচলকারী মানুষকে অবর্ণনীয় দূর্ভােগের শিকার হতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দারে সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিরুনীয়া বাজার থেকে কাঁচা রাস্তাটি শুরু হয়ে কাইচাঁন গ্রামের মধ্যে দিয়ে রাজৈ ইউনিয়নের বোর্ড বাজার নামক স্থান পর্যন্ত চলে গেছে। এই রাস্তাটরি দৈর্ঘ্য চার কিলোমিটারের কিছু কম বা বেশি হবে। এ গ্রামে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো গড়ে উঠেনি। গ্রামের ছেলে মেয়েরা মাধ্যমিক পযার্য়ের পড়াশোনা করতে হলে কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করে দুই কিলোমিটার দূরে বিরুনীয়া বাজার দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা ও কংশরেকুল উচ্চ বিদ্যালয়, সায়েরা সাফায়তে স্কুল এন্ড কলেজে যাতায়াত করে থাকেন। গ্রামটির অধিকাংশ মানুষ স্থানীয় বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে বেশির ভাগ গ্রামবাসী কৃষি কাজ করেই জীবিকা নিবার্হ করেন বলে জানান গ্রামবাসী কিন্তু রাস্তাটি পাঁকা না হওয়ার ফলে তাদের উৎপাদিত পণ্য স্বাভাবিক বাজার দর থেকে কম মুল্যে বিক্রি করতে হয় যার দরুন স্থানীয় কৃষকেরা প্রতিনিয়ত ব্যপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। গ্রামের বাসিন্দা অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায় , বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তায় কাদাপানি জমে থাকে। তখন রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলতে পারে না ।

এমনকি হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় মুমুর্ষ রোগীদের পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম হয়ে পড়ে কাঠের তৈয়রী চেঙ্গাদোলা। কাইচাঁন গ্রামরে বেশির ভাগ বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ২৩ বছর আগে ১৯৯৬ সালে এই ইউনিয়নের কৃতি সন্তান জনাব, অধ্যাপক ডাঃ এম আমান উল্লাহ সংসদ সদস্য হিসেবে নিবার্চিত হন সেই নিবার্চনের পূর্বে গ্রামবাসিকে ওয়াদা দিয়েছিলেন তিনি নিবার্চিত হলে এই কাঁচা রাস্তাটি পাকাঁ করে দিবেন ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন করবেন। এই গ্রাম থেকে ওনাকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছিলেন এলাকাবাসী একে একে তিনি চার বার সংসদ সদস্য নিবার্চিত হলেও তিনি কাইচাঁন বাসীকে দেয়া ওনার ওয়াদাটি পূরণ করতে পারেননি।

তিনি আরও বলছেলিনে অতি তারাতারি বিরুনীয়া টু কাইচাঁন ভায়া হয়ে বোর্ড বাজার, বিরুনীয়া – রাজৈ ইউনয়িনের প্রধান রাস্তাটি কাজ করা হবে,ওনার প্রতিশ্রুতি বুকে নিয়েই কাইচাঁনবাসী দীর্ঘ ২৩ বছর পাড় করলেও রাস্তাটি আজোও পাকাতো দুরের কথা মাটি পর্যন্ত ফেলা হয়নি। তবে ৫ নংবিরুনিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রিদওয়ান সারুয়ার রব্বানীর বক্তব্যে তিনি বলেন ৯ নং ওয়ার্ড কাইচাঁনের রাস্তাটি দীর্ঘ দিনের পুরাতন তবে সাবেক এমপি প্রজেক্ট দিয়ে গেছে কেউ ডিষ্টার্ব না করলে রাস্তাটি খুব দ্রুত হবে আশাবাদী।

Print Friendly, PDF & Email