|

ভালুকায় বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাট; ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশিতঃ ২:৫৩ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্ট, ভালুকার খবর: ময়মনসিংহের ভালুকায় জমি দখলের উদ্দেশ্যে এক মহিলার বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অসহায় পরিবারটির অভিযোগ। ঘটনাটি উপজেলার মাষ্টারবাড়ি এলাকায়। এ ব্যাপারে মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাষ্টারবাড়ি এলাকায় মহাসড়কের পাশে জামিরদিয়া মৌজার ৪৮ নম্বর দাগে জনৈক নুরুদ্দিন ওরফে নুরু মিয়া তার স্ত্রী রহিমা খাতুনকে (৫০) বেশ কয়েক বছর আগে ফেলে চলে যাওয়ার পর তিন মেয়ে, মেয়ে জামাই ও নাতিদের নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। ওই দাগে স্বামীর জমির সাথে রহিমার সাড়ে পাঁচ শতাংশ জমির উপর দু’টি দোকান, টিনের বেড়ার ঘরসহ ৩১ টি কাাঁচা-পাকা ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। গত সেমাবার ৭০/৮০ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ দল দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় ১৫ টি ঘর ভাঙচুর ও অন্যান্য ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।

বাড়ির মালিক রহিমা খাতুন জানান, স্থানীয় ভূমিদস্যূ সালাউদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে শতাধিক লোক দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আমার ভাড়া দেয়া গফরগাঁও টেইলারিং ও একটি মোবাইলের দোকান ভাঙচুর করে সকল মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ১৫ টি টিনসেট ও মাটির তৈরী ঘর ভাঙচুর এবং গাছপালা কেটে ফেলা হয়। ভাঙচুর ও লুটপাট ঘটনায় তাদের প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রতিপক্ষ আমার জমির সামনের অংশে সীমাণাপ্রাচীর করায় বাসা থেকে বের হওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। তাছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় অন্ধকারের মধ্যে আমাদের মোমবাতি জ্বারিয়ে রাত্রিযাপন করতে হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত রহিমার ভাই আব্দুস সাত্তার মাষ্টার জানান, বহুদিন আগে নুরুদ্দিন তার বোনকে ছেড়ে চলে গেছে। সে আরো দু’তিনটি বিয়ে করে ওদেরকে নিয়েই আছে। বহু বছর ধরে সে আমার বোনের খবর নেয়না। সালাউদ্দিনের কাছে সে তার বোনের সাড়ে পাঁচ শতাংশ জমিসহ বিক্রি করে দিয়েছে। আর সে কারণে এলাকার আলোচিত ভূমিদস্যূ সালাউদ্দিন শতাধিক সন্ত্রাসী নিয়ে আমার বোনের বাড়িতে হামলা চালায় এবং লুটপাট করে।

নুরুদ্দিন ওরফে নুরু মিয়ার বক্তব্য নেয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেও সাক্ষাত না পাওয়ায় তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযুক্ত সালাউদ্দিন রহিমার বসতবাড়িতে হামলার ঘটনাটি অস্বীকার করে জানান, নুরুদ্দিন ওরফে নুরু তার চাচাতো ভাই। তিনি আমার কাছে জমি বিক্রির প্রস্তাব করলে, আমি তাকে বলেছি, জমির উপর নির্মিত ঘরসহ অন্যন্য স্থাপনা পরিস্কার করে দিলে জমি নিতে পারি। ওই কারণে হয়তো নুরুদ্দিন ঘরগুলো ভাঙচুর করছেন।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রহিমা খাতুন বাদি হয়ে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন সরকার, নুর মোহাম্মদ, সোহরাব উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন ও সোহেল মিয়াসহ অজ্ঞাত ৭৫ জনের বিরুদ্ধে মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, অভিযোগমুলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email