গফরগাঁওয়ে আগুন নেভাতে গিয়ে আহত স্টেশন অফিসার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে
প্রকাশিতঃ ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ২২, ২০১৯
গফরগাঁও প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে অগ্নি নির্বাপন করতে গিয়ে মারাত্মক আহত ফায়ার স্টেশন অফিসার রেজাউল করিম বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের ২১ নম্বরে ওয়ার্ড চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা যায়, গত ৫ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার পাগলা থানধীন দত্তের বাজার ইউনিয়নের পাঁচুয়ালির সহিদুল ইসলামের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়। স্টেশন অফিসার রেজাউল করিম তৎক্ষনাত একদল দমকল কর্মী নিয়ে ছুটে যায় আগুন নেভাতে। অল্প সময়ের মধ্যে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে আগুন নেভানোর কাজ শেষে স্টেশন অফিসার রেজাউল করিম ও পাগলা থানার পুলিশ কনস্টেবল আমিনুর রশিদ ধ্বংসাবশেষের ভেতরে প্রবেশ করতেই মাটির দেয়ালে নিচে চাপা পড়েন।
সহকর্মীরা প্রায় দেড় ঘন্টা পর গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে। সজ্ঞাহীন স্টেশন অফিসার রেজাউল করিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে গফরগাঁও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপর আহত পুলিশ কনস্টেবল আমিনুরকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়। জীবন বাজি রেখে আগুন নিভিয়ে নিজ জীবন সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ে রেজাউল করিমের। কোমড়ের হাড় এমনভাবে ভেঙ্গেছে যে,স্বাভাবিক জীবন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সহকর্মীকে দেখতে সকলেই ছুটে যান।
জেলা ফায়ার স্টেশনের সহকারি পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। একজন দায়িত্বশীল সাহসী কর্মী রেজাউল করিমের পাশে রয়েছে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স। যথাযথ চিকিৎসায় তিনি সুস্থ্য হয়ে উঠবেন।
এ ব্যাপারে চিকিৎসকরা জানান, জীবন সঙ্কট কেটে গেলেও তাকে দীর্ঘসময় বিশ্রামে থাকতে হবে। পরিবারের উদ্বেগ কবে সুস্থ হয়ে তিনি আবারো কর্মস্থলে ফিরবেন। স্ত্রী তিন ছেলে দুই মেয়ের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন এখন হাহাকারে পরিনত হয়েছে। চিকিৎসার ব্যায়ভার ও সংসার নিয়ে হতবিহবল রেজাউল করিম। তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের গড়াবেড় গ্রামে।
তিনি বলেন, পারিবারিক স্বচ্ছলতা খুব বেশী না হলেও চাকুরীর কারনে সংসার নিয়ে চিন্তা ছিলনা। মেঝো ছেলে মোজাহিদ করিম বলেন, আমার বাবার সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবন নিয়ে আমরা ভীষন দুর্ভাবনায়।
রেজাউল করিমের স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন বলেন, এই দুর্ঘটনা স্বামীকে পঙ্গু করে দিলে পরিবারের সদস্যেদের নিয়ে কোথায় যাবেন। স্বামীর সুস্থতা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্টদের নিকট আবেদন জানান।


