|

ভালুকায় অবৈধ করাতকলে চেড়াই হচ্ছে গজারী কাঠ, হুমকির মুখে কাদিগড় জাতীয় উদ্যান

প্রকাশিতঃ ৩:০২ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ২৪, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভালুকার খবরঃ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভালুকা রেঞ্জের আওতায় লাইসেন্স বিহীন কড়াতকলে দিনরাত আকাশমনি ও গজারী কাঠ চেরাইয়ের ফলে কাদিগড় জাতীয় উদ্যান সহ এলাকার পরিবেশ বান্ধব বন এখন সম্পুর্ণ ধ্বংসে মুখে।

খোজ নিয়ে জানা যায় মহামারি করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে সরকার যখন কঠোর অবস্থানে তখন সরকারের নিয়ের্দেশনা অমান্য করে দিন রাত এসব অবৈধ করাত কলে চেড়াই করা হচ্ছে আকাশমনি ও গজারী কাঠ, স্থানীয়রা জানায় এসব করাত কলে নিয়মিত দিনের বেলায় কাটা হয় আকাশমনি গাছ ও রাতের বেলায় কাটা হয়ে গজারী গাছ। দিনে বান হতে গজারী গাছ কেটে স-মিলে এনে জড়ো করে তা রাতে চেড়াই করছে। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক স-মিল চালক জানান স্থানীয় বন বিভাগ কে নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই এসব অবৈধ করাত কল গুলো পরিচালিত হচ্ছে।

উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের বাটাজোর এলাকার রাতের আঁধারে নিয়মিত গজারি গাছ চেড়াই হচ্ছে জাহাঙ্গীর মেম্বারের করাত কলে। এ ছাড়াও কারিনা , হবিরবাড়ী, কাশর চৌরাস্তা ও মল্লিকবাড়ী বাজার ২৫/৩০ টির মত লাইসেন্স বিহীন কড়াত কলে দিনরাত চলছে শাল-গজারী ও বাগান কাঠ চিড়াই, ফলে উজার হচ্ছে কাদিগড় জাতীয় উদ্যানের শাল-গজারী বন। বন আইনে বন এলাকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোন কড়াত কল স্থাপন সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ হলেও কাদিগড় বনাঞ্চল হতে মাত্র দুই কিলোমিটার দুরে কাচিনা বাজার, আড়াই কিলোমিটার দুরে বাটাজোর বাজারে ১০/১২ টি লাইসেন্স বিহীন কড়াত কলে দিনরাত চলছে শাল-গজারী ও আকাশ মনি বাগান কাঠ চিড়াই কাজ। কাদিগড় বন বিট অফিস হতে মাত্র ৩ কিলোমিটার দুরে বাটাজোর বাজারে সেলিম তালুকদার, ইমরুল তালুকদার, আতিক মন্ডল, পলাশ তালুকদার, নয়ন মিয়া, জাহাঙ্গীর মেম্বার সহ ১৩ টি কড়াত কলে বনের গাছ চেড়াই করছে প্রতিনিয়ত। এছারা জাতীয় উদ্যানের মাত্র দুই কিলোমিটার দুরে তামাট বাজারে রফিক মিয়া সহ অন্যরা ২/৩ তিনটি করাত কলে রাত দিন বনের কাঠ চেড়াই করে নষ্ট করছে বনাঞ্চল । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কড়াতকল মালিক জানান তারা বছরের পর বছর বন এলাকায় বিনা লাইসেন্সে বনের লোকজনদের ম্যানেজ করেই কড়াতকল চালাচ্ছেন । বাটাজোর বাজার কড়াতকল মালিকদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব ফার্নিচারের দোকান সহ শত শত কাঠ মিস্ত্রির দোকান রয়েছে।

এ ব্যাপারে কাদিগড় বিট কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান বাটাজোর এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের গড়ে উঠা প্রায় ১৩ টির মত লাইসেন্স বিহীন কড়াতকল রয়েছে সম্প্রতি দুটির বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। রাতের বেলা গজারী গাছ চেড়াইয়ের খবর আমার জানা নেই।

ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হসেন জানান রাতের বেলা যদি গজারী কাঠ চেড়াই করে থাকে খোজ নিয়ে দেখি সত্যতা পাওয়া গেলে বন আইনে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান বনের সীমানার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যে কড়াতকল গুলো রয়েছে সে গুলোর বিরুদ্ধে আইগত ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে আর যাদের লাইসেন্স মেয়াদ উত্বীর্ন তাদের বিরুদ্ধে মিল বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায় সরকারের জলবায়ূ, বন ও পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে এসব অবৈধ কড়াত কল মালিকরা অসাধু বনকর্মকর্তাদের যোগ সাজসে জাতীয় উদ্যানের ক্ষতি সাধন সহ পরিবেশ ও জাতীয় সম্পদ বন ধ্বংসে লিপ্ত রয়েছে। বন রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অচিরেই ব্যবস্থা নিবেন এটাই সচেতন মহলের দাবী।

Print Friendly, PDF & Email