বদলে গেছে ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিস
প্রকাশিতঃ ১:৫৯ অপরাহ্ণ | মে ১৯, ২০১৯
স্টাফ রিপোর্ট, ভালুকার খবর: ভূমি বিষয়ক যে কোন কাজ মানেই দালালের দৌরাত্ম্য। দিনের পর দিন হয়রানি। কর্মচারীদের অবজ্ঞার পাশাপাশি বাড়তি খরচ, টেবিল থেকে টেবিলে ঘোরাঘুরি। তরুন ও মেধাবী অফিসারদের ছোঁয়ায় অনেকটাই বদলে গেছে এই চিত্র। ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসের বদলের পেছনের মানুষটি হলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোমেন শর্মা।
সম্প্রতি ভালুকা উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, ভিতরে বাহিরে পরিপাটি করে সাজানো কার্যালয়। ভবনের বাইরে নানা প্রজাতির ফুল-ফল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ। কার্যালয় চত্ত্বরেই বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো। তাতে, জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন স্লোগান, জমির নামজারি করতে কত টাকা লাগে, খতিয়ান তুলতে কত খরচ হয়, খাসজমি বন্দোবস্ত নিতে করণীয়, কোন বিষয়ে কার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে এসব তথ্য লেখা। কার্যালয়ের সামনেই ‘হেল্প ডেস্ক’ নামের একটি সহায়ক টেবিল। সেখানে দুইজন কর্মচারী সার্বক্ষণিক সেবাপ্রার্থীদের তথ্য সহায়তা দেন। পাশেই থরে থরে সাজানো নানা আবেদন ফরম। সেখান থেকে সেবাপ্রার্থীরা বিনা খরচে ফরম নিতে পারেন। কেউ যদি ফরম পূরণ করতে না পারেন বা না জানেন তাহলে ওই সেবাপ্রর্থীর ফরম পূরণ করে দিচ্ছেন ভূমি অফিসের কর্মচারীগণ। তাদের গলায় ঝুলছে পরিচয়পত্র। কার্যালয়ের সামনেই রয়েছে সেবাপ্রার্থীদের বিশ্রামের জায়গা। দূরদূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা লোকজন সেখানে বিশ্রাম নেন।
এসি (ল্যান্ড) রোমেন শর্মা ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসে গত ২ এপ্রিল যোগদান করার পর ২০ এপ্রিল ভালুকার জনপ্রিয় ফেসবুক গ্রুপ “ভালুকা হেল্পলাইনে” তাঁর ফেসবুক থেকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অবস্থান সম্পর্কে জানান দিয়েছেন স্থানীয় সকল শ্রেণী পেশার মানুষদের। ওই পোষ্টে তিনি দৃঢ়তার সাথে লিখেছিলেন, ‘যতদিন ভালুকা আছি, ভালুকাবাসীর সেবায় নিজেকে আত্ননিয়োগ করবো’।
ওই স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘ঝামেলামুক্ত ভূমিসেবা দিতে আমি বদ্ধপরিকর। নামজারী, জমা-খারিজ, মিসকেস, রিভিউসহ যে কোন প্রকার ভূমিসেবা পেতে সরাসরি নিজে চলে আসুন আমার অফিসে। কোন প্রকার তৃতীয় পক্ষের শরণাপন্ন হবেন না। তাছাড়া যে সকল বিষয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা উচিৎ বলে আপনারা মনে করেন সরাসরি এই গ্রুপে (ভালুকা হেল্পলাইন) পোস্ট দিয়ে আমাকে মেনশন করুন। পাবলিক্যালী জানাতে সমস্যা মনে করলে আমাকে ইনবক্সে জানান। তবে দয়া করে কোন হয়রানিমূলক পোস্ট করবেন না’। এসি (ল্যান্ড) এর এমন পোষ্টে অসখ্য লাইক কমেন্ট পড়েছিলো। যা, স্থানীয় যুবসমাজকে ভালো কাজে উদ্যোগী করে তুলেছিলো।
তিনি ভালুকায় যোগদানের পর তাঁর ফোন নাম্বার গোটা উপজেলায় মাইকিং করে দেওয়া হয়েছিলো। যার ফলে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছেও পৌছে গেছে তাঁর ফোন নাম্বার।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোমেন শর্মা জানান, এ কার্যালয়ের সব নথি ক্রমানুসারে রেকর্ডরুমে যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং তার ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করার কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হলে যেকোনো নথি এক মিনিটের মধ্যে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া নামজারি ও বিবিধ মামলার শুনানির তারিখ বাদী ও বিবাদীকে মুঠোফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নামজারীর আবেদন করার সাথে সাথে সেবা প্রর্থীর সম্ভব্য শুনানীর তারিখ ও নিষ্পত্তির তারিখ ক্যালেন্ডার মাফিক হেল্প ডেস্ক থেকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাতে যথা সময়ে সকলে এসে তাদের কাজ অনুযায়ী আসতে পারে। তাছাড়া ইতোমধ্যে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খাস জমির রেজিষ্ট্রার হালকরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই অফিসে সেবা পেতে কোন অসুবিধার সম্মূখীন হতে হয় না। সবাই সেবা প্রদানের ব্যপারে আন্তরিক। কেউ কোন বিষয়ে প্রতিকার না পেলে বা হয়রানির শিকার হলে সরাসরি আমাকে জানালে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো’।
উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের শান্তিগঞ্জ এলাকা থেকে জমি খারিজের জন্য এসেছেন স্বপ্না আক্তার তিনি বলেন, ‘এত তারাতারি কোন প্রকার ঘুষ বিহীন জমির খারিজ হয় আমি কখনও কল্পনাও করিনি। আমি ভূমি অফিসের সেবা পেয়ে অত্যান্ত খুশি’।
উপজেলা মল্লিকবাড়ী এলাকা থেকে ভূমি বিষয়ক পরামর্শ নিতে এসেছেন আব্দুল বারেক (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ তিনি বলেন, ‘এই আফিসার সবাই খুব অন্তরিক, আমি খুব সহজের বড় স্যারের (সহকারী কমিশনার ভূমি) সাথে কথা বলতে পারলাম। স্যার আমাকে খুব সুন্দর পরামর্শ দিয়েছেন, আমি অত্যান্ত খুশি স্যারের সাথে কথা বলতে পেরে’।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোমেন শর্মা আরও বলেন, “শ্রদ্ধেয় বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান স্যারের দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণার ফলে আমি অনেক চ্যালেঞ্জ ও সাহস নিয়ে কাজ করতে পারছি। ময়মনসিংহ জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস স্যার এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল স্যার আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। আমার পূর্বসূরীগণ আমার কাজকে অনেকটাই সহজ করে গেছেন। এখন শুধু এগিয়ে নেয়ার পালা।”



