|

ভালুকায় ওসির মানবতা!

প্রকাশিতঃ ২:৪৫ অপরাহ্ণ | জুন ০২, ২০১৯

প্রভাষক আনোয়ার হোসেন তরফদার, ভালুকার খবর: ভালুকা উপজেলার বহুলী গ্রামের সোহাগ মিয়ার বাড়ীর বারান্দায় শুক্রবার দুপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী বেওয়ারিশ এক নবজাতক প্রসব করেছেন। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম রাতে মানসিক ভারসাম্যহীন মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান । এ ঘটনায় উপজেলায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর উপজেলার বহুলী গ্রামের সোহাগের বাড়ির বাহিরের দিকের বারান্দায় মানসিক ভারসাম্যহীন (২০) এক নারী প্রসবের ব্যাথায় ছটফট করতে থাকেন। ওই নারীর ডাক-চিৎকারে বিলকিস বেগম নামের এক মহিলা টের পান। পরে কিছুক্ষণের মধ্যেই বিলকিছ বেগমের হাতেই ওই মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ফুটফুটে এক ছেলে নবজাতক প্রসব করেন। এরপর ওই নারীর নাম-পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন প্রশ্নের উত্তর না দিলে ও তাঁর আচরনে স্থানীয় মানসিক ভারসাম্যহীন বলে চিহ্নত করে ।

পরে এই ঘটনাটি ভালুকা মডেল থানায় জানান স্থানীয়রা । পরে থানার ওসি (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম ওই নারী ও নবজাতককে উদ্ধারের জন্য ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে একজন চিকিৎসকসহ অ্যাম্বুলেন্সের সহযোগিতা চান। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইউএনও কে জানান হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট । রাত ১০টার দিকে তাসলিমা বেগম নামের ওই স্থানীয় মহিলা আবার মোঠো ফোনে ওসি (তদন্ত) মাজহারুল ইসলামকে জানান, প্রসবের পর ওই নারীর ব্যাপক রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে নবজাতকও তেমন নরাচড়া করছে না।

ওসি (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম আর কোন উপায় না পেয়ে একটি নোয়া গাড়ি ভাড়া করে মধ্য রাতেই নবজাতকসহ মাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ওই নারী ও নবজাতকের খোঁজ নিতে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাইন উদ্দিন। ওই নারী ও নবজাতকের সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত চিকিৎসাসহ সব ধরনের ব্যয়ভার বহন করবেন বলে জানান ওসি মাইন উদ্দিন।

ভালুকা মডেল থানা ওসি (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান, ‘নবজাতকসহ তাঁর মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। নাম-ঠিকানা কিছুই জানা যায়নি। নারী ও নবজাতকের সেবার জন্য একজন আয়া নিযুক্ত রাখা হয়েছে। ওসি স্যার মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ও ওই বেওয়ারিশ নবজাতকের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমরা নবজাতকের পিতাকে খোঁজে বের করতে চেষ্টা করবো’।

Print Friendly, PDF & Email