|

ভালুকায় শিশু ফারজানা হত্যার বিচার চেয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন পিতা

প্রকাশিতঃ 2:25 pm | July 15, 2019

স্টাফ রিপোর্ট, ভালুকার খবর: ময়মনসিংহের ভালুকায় চাচির পরকিয়া সম্পর্ক দেখে ফেলার জেরে পাঁচ বছরের শিশু ফারজানা আক্তারকে চাঞ্চল্যকর ওই হত্য মামলার বিচার চেয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন শিশুটির পিতা ফজলুল হক ফজু। গত বছরের ৯ই নভেম্বর উপজেলা পাঁচগাঁও গ্রামে নিখোঁজ থাকার ১০ঘন্টা পর ওই শিশুর বাড়ির পাশের একটি জঙ্গল থেকে অর্ধঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করেছিলো ভালুকা মডেল থানা পুলিশ। পরে শিশুটির বাবা ফজলুল হক ওরফে ফজু মিয়া বাদি হয়ে ভালুকা মডেল থানায় মামলা (নং-২১) মামলা দায়ের করেছিলো।

কিন্তু ঘটনার ৯মাস পার হলেও পুলিশ এখন চার্জশিট না দেওয়ায় এবং মূল অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিশুটির পিতা। এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্দন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন স্থানীয় ব্যাক্তি। এ হত্যাকান্ডে বেশ কয়েকজন ব্যাক্তি জড়িত থাকলেও গ্রেফতার হয়েছিলো মাত্র ২জন। প্রধান আসামী শফিকুল হাজতসাব করেছে মাত্র ৩মাস ও অন্যতম আসামী মিনারা খাতুন ২২দিন হাজতবাসের পর জামিনে রয়েছে। আসামীরা জামিনে এসে বাদিকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানারকম হুমকি প্রদান করছে বলে জানান শিশুটির পিতা ফজলুল হক।

শিশুর ফারজানা আক্তারের পিতা ফজলুল হক ফজু মিয়া আরও বলেন, “ফারজানা তার চারির পরকিয়া সম্পর্ক দেখা ফেরার কারনে খুন হয়েছে। ফারজানার চাচির সাথে পরকিয়া সম্পর্কে জড়িত ছিলো মল্লিকবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে স্থানীয় একজন ব্যাক্তির ছত্রছায়ার বর্তমানে পাপুয়া নিওগিনি প্রদেশে বসবাস করছে। এমন একটি নির্মম হত্যকান্ডের জন্য অন্যতম আসামীরা এত তারাতারি কিভাবে জামিন লাভ করে তা আমার বোধগম্য নয়। ঘটনার ৯মাস পেরিয়ে গেলেও আমার মেয়ে হত্যা মামলার কোন অগ্রগতি নেই। আমি গরিব মানুষ বলে কি মেয়ে হত্যার বিচার পাবোনা?। আমি মাননীয় প্রধান মন্ত্রির কাছে আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই”।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ফারজানা আক্তার ঘটনার দিন স্থানীয় মক্তব থেকে ফেরার পথে পাশের এক বিয়েবাড়িতে যায়। দুপুরের দিকেও বাড়ি না ফেরায় তার পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। প্রতিবেশীদের বাড়ি এবং আশপাশের মাছের খামারগুলোতে খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয়ভাবে মাইকিং করা হয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়ির পাশের একটি বাঁশের ঝাড়ে ফারজানার অর্ধঝুলন্ত অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মতিউর রহমান জানান, “এ মামলার ২জন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছিলো। তাদেরকে রিমান্ডেও আনা হয়েছিলো। আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে, শিশুটির ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া দেরি হচ্ছে বলে চার্জশিট দিতে পারছিনা, অতি দ্রæত সময়ের মধ্যেই মামলাটির চার্জশিট দেওয়া হবে”।