|

ভালুকায় করোনা ‘প্রতিরোধ সংগ্রামে’ একজন আবুল কালাম আজাদ

প্রকাশিতঃ ৬:৪৬ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১১, ২০২০

মো. আসাদুজ্জামান সুমন, ভালুকার খবর: কখনও উপজেলা পরিষদের সরকারী গাড়ি, কখনও মোটরসাইকেল, কখনও বা পায়ে হেঁটে ছুটে বেড়াচ্ছেন উপজেলার এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তের অজপাড়াগাঁয়ে। উদ্দেশ্য, মানুষকে ঘরে থাকতে উৎসাহিত করা। হ্যান্ড মাইক দিয়ে বাজারে বাজারে উপস্থিত মানুষদের ঘরে থাকতে অনুরোধ জানাচ্ছেন। কখনও কোভিড ১৯ এর ভয়াবহতা বর্ণনা করে, কখনও নিজের পরিবারের সদস্যের মত ‘ধমকের সুরে’ তাদের পরিবারের লোকদের দোহায় দিয়ে ঘরে থাকতে অনুরোধ করছেন উপজেলাবাসীকে। বলছিলাম, ভালুকা উপজেলায় করোনা প্রতিরোধ ‘সংগ্রামে একজন অগ্র সৈনিকের’ কথা। তিনি ভালুকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ।

উপজেলাবাসীর মানবতার সেবায় নিজেকে ‘সঁপে’ দিয়ে নানা ভাবে উপজেলাজুড়ে চালিয়ে যাচ্ছেন সচেতনতামূলক প্রচারণা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার শহর অঞ্চল থেকে গ্রামের অজপাড়াগাঁয়ের চা ষ্টলে মানুষকে সচেতন করতে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণামূলক কাজ। সেই সাথে করোনার প্রভাবে উপজেলায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে স্থাপন করেছেন মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বাজারে ছিটানো হচ্ছে জীবাণুনাশক স্প্রে।

করোনা প্রতিরোধ ‘সংগ্রামে’ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল, ভাইস-চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম পিন্টু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোমের শর্মা ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাইন উদ্দিনের ভূমিকাও ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়িয়েছে উপজেলার সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে। এসব বিষয়ে প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ভেসে আসে নানারকম ‘প্রসংশার বাণী’।

এ বিষয়ে শিক্ষক ও সমাজকর্মী শফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ সহ উপজেলা প্রশাসন ভালুকায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যে ভূমিকা রেখেছেন আমরা উনাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহ আমাদেরকে এ বৈশ্বিক মহামারী থেকে মুক্তি দান করুন। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে আমাদের উপজেলা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা উপজেলার ৪২শত পরিবারের মাঝে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি পেয়াজ, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবন, আধা লিটার সয়াবিন তৈল ও একটি সাবান বিতরণ করেছি। এর মাঝে ১১টন চাল ও ৫০হাজার টাকা সরকারী বরাদ্ধ পেয়েছি। উপজেলাবাসীর মাঝে আমরা উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিতরণ করেছি প্রায় ১৫লক্ষ টাকার খাদ্য সামগ্রী। এসব টাকা সিংহভাগ অংশই ধনাঢ্য দানশীল ব্যাক্তিগণের কাছ থেকে সংগ্রহ করা। আমরা দেশের করোনা পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত উপজেলাবাসীর পাশে থাকবো। মহান আল্লাহ আমাদের দেশ তথা বিশ্বকে এ মহামারী থেকে রক্ষা করুন।’

Print Friendly, PDF & Email