|

প্রধানমন্ত্রীর উপহার ও একজন ‘নিপেন মামা’

প্রকাশিতঃ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২৩, ২০২০

জাহিদুল ইসলাম খান, বিশেষ প্রতিবেদক: নিপেন মামা, সবাই তাঁকে নিপেন মামা বলেই ডাকে। সে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের সোনার বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরী । বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস দিনগুলোতে নিপেন অনেক চিন্তিত।

স্কুলটা বন্ধ। তাছারা কারও কাছে হাত পাততেও পারছেনা সে। কিভাবে চলবে সংসার? পরিবারে স্ত্রী সহ ছোট ছেলে (সেলুনে কাজ করে) ২ মেয়ে তাদের বিয়ে দিয়ে দিছে। বর্তমানে তিনজনের খাবারের একমাত্র উপার্জন করার মত তো একজনই নিপেন।

৬০উর্দ্ধ বয়সের নিপেন এখন তো আর মানুষের বাড়ীতে কাজ করতে পারেনা। কি খাবে তাই নিয়ে চিন্তিত নিপেন। ঠিক এই সময়ে একজন খবর দেয় তারই ইউনিয়নের চেয়্যারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ বাচ্চু তাঁকে পরিষদে যেতে বলছে। হতাশাগ্রস্থ নিপেন ক্লান্তি নিয়ে চলে যায় ইউপি কার্য্যালয়ে। সেখানে যাওয়ার পর চেয়্যারম্যান প্রধানমন্ত্রীর উপহার লেখা একটি ত্রাণের প্যাকেট দেয় নিপেনের হাতে। সেই প্যাকেট হাতে নিয়ে নিপেনের চোখে জল ,মুখে তৃপ্তির হাসি।

মুখে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ না দিতে পারলেও অন্তরে তার দীর্ঘশ্বাস। মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে ফিস ফিস করে বলছে আমাদের মতো হাজারো নিপেনের কথা প্রধানমন্ত্রীর মনে আছে? অন্তরে আছে, তাইতো তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। নিপেন ভাবছে অন্তত কয়েক দিনের হলেও তো সংসারের খাওয়ার জন্য একটা ব্যবস্থা হলো। ওই প্যাকেট মাথায় নিয়ে নিপেন বাড়ীর দিকে যাচ্ছে আর মনে মনে বলছে ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী। আপনি আছেন বলেই তো নিপেনদের আর না খেয়ে থাকতে হয়না।

হবিরবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ বাচ্চু বলেন, ‘নৌকার টিকেট পেয়ে অল্প বয়সে জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুয়োগ করে দিয়েছেন আমাদের অভিভাবক সফল রাষ্ট্র নায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনা। আজ জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আমার ইউনিয়নে নিপেনের মত ৯০০ পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিতে পেরে খুবই তৃপ্তি পাচ্ছি। তাছারা আমরা উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রসানের পক্ষে আমার ইউনিয়নে ৭টন চালসহ অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী দিয়েছি। এবং আরো খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার জন্য মাষ্টার রোলের কাজ চলছে। ইউএনও স্যার ফোন দিলে এবং লকডাউন করা পরিবারের মাঝে বাড়ী বাড়ী খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কাজ চলছে। ’

Print Friendly, PDF & Email