ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে পাবলিক টয়লেট না থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ
প্রকাশিতঃ ৪:০৮ অপরাহ্ণ | জুন ২৩, ২০২০
মামুন সরকার, ভালুকার খবর: ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চল হিসেবে খ্যাত ভালুকা উপজেলা। এখানে গড়ে উঠা গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, ওষুধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কল কারখানা। এই শিল্প নগরী ভালুকা উপজেলায় বাসস্ট্যান্ডে একটি পাবলিক টয়লেট না থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
প্রতিদিন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রীকে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড হয়ে যাতায়াত করতে হয়। ফলে এখানে ভিড় লেগেই থাকে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগের জন্য দিন রাত ২৪ ঘন্টা কর্ম ব্যস্ত হয়ে থাকে এই জায়গা। এতো ব্যস্ত জায়গা হওয়ার পড়েও একটি পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। হোটেল স্বাদ এবং সেভেন ষ্টার হোটেল সহ আশেপাশে অবস্থিত কয়েকটি হোটেল পরিচিতজনরা ব্যবহার করে কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনা অপ্রতুল। অপরিচিত সহ অধিকাংশ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন পৌর শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত জায়গায় বাসস্ট্যান্ডে পাবলিক টয়লেট। যাতে মানুষ তার প্রকৃতির অতি জরুরি প্রয়োজন অনায়াসে মেটাতে পারে।
বর্তমানে ভালুকায় এই একটি সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এক শ্রেণীর পুরুষ প্রকাশ্যে রাস্তায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে, অফিস আদালতের সামনে, অলিতে গলিতে যত্রতত্র মুত্র ত্যাগ করছে। এতে করে নারী পথচারিদের পথচলতে বিব্রত হতে হয়। অপরদিকে পরিবেশেরও মারাত্মক দুষণ করছে।
স্ত্রী ও তিন বছরের শিশু নিয়ে ঢাকাগামী বাসের অপেক্ষায় থাকা বিরুনীয়া ইউনিয়নের রইছউদ্দিন বলেন, ‘বসা তো দূরের কথা, বউ-বাচ্চা নিয়ে ভালোভাবে যে দাঁড়াইয়া থাকবো, সে উপায়ও নাই। এত মানুষ যেখান দিয়া যাওয়া-আসা করে, সেই বাসস্ট্যান্ডে বসা যায় না, প¯্রাব-পায়খানার জায়গা নাই।’
পৌর মেয়র ডা. একেএম মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ুম জানান, ‘বাসট্যান্ডের আমপাশে পৌরসভার কোন জমি না থাকায় সড়ক ও জনপথের জমিতে একবার জনসার্থে একটি পাবলিক টয়লেট স্থান করেছিলা। কিন্তু পরবর্তিতে সড়ক ও জনপথের লোকেরা নেটা ভেঙে দেয়। জায়গা খোঁজছি পেলে পাবলিক টয়লেট নির্মান করা হবে।’
কবি ও শিক্ষক শফিকুল ইসলাম খাঁন জানান, ‘এটা অত্যান্ত জরুরী একটা বিষয়। অতি দ্রুত যেন একটি পাবলিক টয়লেট স্থাপন করে মানুষের এই কষ্টের একটা সমাধান হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে ইউএনও মাসুদ কামাল কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘বাসস্ট্যান্ডে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের বিষয়টি মাথায় আছে। দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এইটা নিয়ে আলোচনা করে একটা ব্যবস্হা গ্রহন করব।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিষয়টি খুবই জরুরী। আমি সংশ্লিদেও সাথে কথা বলেছি। দেশের পরিবেশ একটু স্বাভাবিক হলেই আশা করি পাবলিক টয়লেটের একটা ব্যবস্থা হবে।’


