|

ভালুকায় অটোচালক কাওসার হত্যার মুল হোতা গ্রেফতার

প্রকাশিতঃ 6:44 pm | October 20, 2023

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভালুকার খবর: ময়মনসিংহের ভালুকার চাঞ্চল্যকর অটোচালক কাউসার (১৫) হত্যার মুল হোতা আনিসুল (২৫) কে র‌্যাব-১৪ এর একটি অভিযানিক দল। বৃহস্প্রতিবার রাতে ত্রিশাল উপজেলা বালিদিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। আনিসুলকে গ্রেফতার করার পর এ হত্যাকান্ডের পুরো ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে।

মামলা ও র‌্যাব সূত্রে জানাযায়, গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের খন্দকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মতিউর রহমানের ছেলে কাউসার তার বাবার অটোরিক্সা নিয়ে বের হয়। রাত পর্যন্ত কাউসার বাড়িতে না ফিরলে পরবিারের লোকাজন ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কাউসার নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর ১৬ অক্টোবর গাজীপুরের গজারিয়া এলাকার নিটোল মটরস সংলগ্ন গাজারিবন থেকে পুলিশ কাউসারের লাশ উদ্ধার করেন। ওইদিন ভালুকা মডেল পুলিশের মাধ্যমে লাশ উদ্ধারের খবর জেনে শহীদ তাজ উদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ছেলের লাশ সনাক্ত করেন বাবা মাতউর রহমান।

পরে এ ঘটনায় কাউসারের বাবা মতিউর রহমান বাদী হয়ে জিএমপি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর ঘটনাটি পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, ডিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা ছায়া তদন্তে নামে। এ ঘটনায় র‌্যাব-১৪ গত মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর রাজেন্দ্রপুর ও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতারকৃত চার জনের স্বীকারোক্তিতে র‌্যাব-১৪ কাউসার হত্যাকান্ডের মুল হোতা আনিসুল (২৫)কে ত্রিশাল উপজেলার বালিদিয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আনিসুল ত্রিশাল উপজেলার এলেংজানি গ্রামের মো. আজিজুল ইসলামের ছেলে।

গ্রেফতারকৃত অপর আসামীরা হলেন, ময়মনসিংহ সদরের বাবু খালি এলাকার আবু হানিফের ছেলে আলী হোসেন (১৯), ত্রিশালের মধ্য ভাটিরচর পারা গ্রামের মৃত আব্দুল সালামের ছেলে মনজুরুল হক (৩৩), নান্দাইলের কচুরি নয়া পারা গ্রামের নবী হোসেনের ছেলে সুলতান (৩৮) ও গাজীপুরের জয়দেবপুরের নয়নপুর গ্রামের মৃত আলম ফকিরের ছেলে আশিক(২২)।

র‌্যাব-১৪এর উপ পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, চক্রটি যাত্রী সেজে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড থেকে কাউসারের অটোরিকশা ভাড়া করে গাজীপুর সদর থানা এলাকার দিকে নিয়ে যায়। পরে চালক কাওসারের সঙ্গে কথাবার্তার একপর্যায়ে সেভেন আপের মধ্যে ঘুমের ওষধ মিশিয়ে খাওয়ালে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। এমতাবস্থায় তাঁকে জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেধে ছুরিকাঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।