|

ঈদের দিন ছেলেকে দূর থেকে দেখে অঝোরে কাঁদলেন ভালুকা উপজেলা চেয়ারম্যান কালাম

প্রকাশিতঃ ১:১৪ পূর্বাহ্ণ | মে ২৬, ২০২০

জাহিদুল ইসলাম খান, বিশেষ প্রতিবেদকঃ নয় বছরের ছোট্ট জাবির। দিন শেষে বাবা ফিরবে। তারপর বাবার সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে উঠবে। বাবার সঙ্গে নানা খেলায় মেতে ওঠা। বাবার গলা জড়িয়ে ঘুমিয়ে থাকা। এগুলোই ছিল হাসিখুশি জাবিরের প্রাত্যহিক রুটিন। বাবার সঙ্গে ছেলের এই হৃদ্যতা অনেকদিন নেই। কারণ, বাবা তাকে ছেড়ে মানুষ বাঁচানোর যুদ্ধে। দীর্ঘ তিন মাস পর বাবা কাছে এসেছিল ঈদের দিন ভোরে। কিন্তু কাছে থেকেও যেন অনেক দূরে। গাড়ি থেকে নামতে পারলেন না। বাবা-ছেলের মাঝখানে যেন এপার-ওপার তারকাঁটা। গলায় জড়িয়ে ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না। কারণ, বাবা যে যুদ্ধে আছেন, সেখান থেকে একেবারে বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত কেউ কাউকে ধরা যায় না।

জাবিরের বাবা আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ । তিনি ভালুকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  । ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পর ময়মনসিংহ  হয়ে ওঠে করোনাভাইরাসের হটস্পট। ইতিমধ্যে ভালুকা উপজেলায় ২৩জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে।মারা গেছে ১জন।এরই ধারাবাহিকতায় ভালুকাবাসীকে   রক্ষায় জাবিরসহ পরিবার-পরিজন দূরে রেখে কালাম নেমে পড়েন মানুষ বাঁচানোর যুদ্ধে। করোনাভাইরাস ঠেকানোর লড়াইয়ে গিয়ে আদুরে ছেলেটির মায়াও ছাড়তে হয় তাকে।

অপরদিকে, ছোট্ট জাবির কী আর এতসব বোঝে! সে শুধু বোঝে, তার বাবা দ্রুতই ফিরবে। আবার তাকে বুকে জড়িয়ে নেবে। গালে চুমু খাবে। খেলা আর খুনসুটিতে মেতে উঠবে বাবা-ছেলের আদুরে প্রাঙ্গণ।ঈদের দিন বাবার সাথে একসাথে বসে খাবার খাবে। বাবার হাতে হাত ধরে ঈদের নামায পরতে যাবে। কিন্তু বাবা বাড়ীতে নাই। আসেও না। সারারাত কান্নাকাটি বাবা আসে না কেন। জাবিরের মা  অনেক চেষ্টা করে ছেলেকে থামাতে ব্যর্থ হয়ে নিজের স্বামীকে ফোন দেয়।৷ ফোন পেয়ে  উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঈদের দিন খুব ভোরে চলে গেলেন ঢাকার নিজ বাসায়।  

আজ ঈদের দিন যখন ছেলের খুব কাছাকাছি গেলেন নিজেকে খুব শক্তভাবে সামলানোর চেষ্টা করেন আবুল কালাম আজাদ। কিন্তু শেষপর্যন্ত পারলেন না চোখের জল আটকে রাখতে। দূর থেকে বাবা-ছেলের দেখাদেখি তৈরি করে এক আবেগঘন পরিবেশ। তারপর কালাম আবার চলে আসেন ছেলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে।

ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ময়মনসিংহের ভালুকায়  দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে। প্রথমদিকে ভয়াবহ সংক্রমণের পথে এগোলেও বর্তমানে এর বিস্তার অনেকখানি কমেছে। এর পেছনে চেয়ারম্যান কালামের  ভূমিকার বিষয়টি বারবার উঠে আসছে।

স্থানীয়রা বলছেন,ভালুকার সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান,উপজেলা প্রশাসন শুরু থেকে তৎপর না হলে ভালুকায় আরও কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হতে পারত।

খুবই ছোঁয়াছে রোগ হওয়ায় করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে গেলে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে সরে যাওয়াই স্বাভাবিক। নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে উপজেলা চেয়ারম্যান কালামও  দীর্ঘ তিন মাস ধরে বাইরে ভালুকায় অবস্থান করছেন। ফলে তিনি বঞ্চিত রয়েছেন আদুরে ছেলের ভালোবাসা থেকেও। ছেলেও সমানভাবে বাবার স্নেহবঞ্চিত।

Print Friendly, PDF & Email