ভালুকায় প্রতারণার মাধ্যমে হেবা দলিলে জমি আত্মসাতের অভিযোগে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
প্রকাশিতঃ 1:57 pm | July 22, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও (গৌরীপুর) এলাকায় ডাক্তার দেখানোর কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে দাদার কাছ থেকে হেবা ঘোষণাপত্র দলিল করে জমি আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ভূমির মালিক দাদা ও ওয়ারিশদার এবং স্থানীয় এলাকাবাসী। অভিযুক্ত দুলাল শিকদার ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত, কথিত হেবা দলিল বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও-গৌরীপুর বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতারণার মাধ্যমে একটি হেবা ঘোষণাপত্র দলিল তৈরি করে প্রকৃত মালিক ও ওয়ারিশদের জমি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রকৃত মালিকদের সম্মতি ছিল না। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, কথিত দলিল বাতিল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।
ভুক্তভোগী সাহেব আলী শিকদারের ছোট ছেলে আহমদ আলী শিকদার অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বাবার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে দুলাল শিকদার ১ একর ৬১ শতাংশ জমি হেবা দলিল করে নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কোনো ভরণপোষণ দেওয়া হচ্ছে না এবং তাঁদের যথাযথ দেখাশোনাও করা হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, তাঁর বাবা শারীরিকভাবে অসুস্থ ও বয়স্ক হওয়ায় চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে তাঁর টিপসই নেওয়া হয়। পরে সেই টিপসই ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে হেবা দলিল সম্পাদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি
ভুক্তভোগী আফসার শিকদার জানান, প্রায় তিন বছর আগে তাঁর খালু সাহেব আলী শিকদার সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে একটি জমি তাঁর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। কিন্তু এক বছর পর একই জমি প্রতারণার মাধ্যমে দুলাল শিকদার হেবা দলিল করে নিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী
ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান শিকদার অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন কৌশলে তাঁর প্রায় এক বিঘা জমিও দখল করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রতারণার মাধ্যমে তাঁর জমিও ১ একর ৬১ শতাংশের কথিত হেবা দলিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
ভুক্তভোগী সাহেব আলী শিকদারের স্ত্রী ফুলজান বেগম অভিযোগ করে বলেন, দুলাল শিকদার তাঁর এবং তাঁর স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) নিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, প্রায় শতবর্ষী ও অসুস্থ সাহেব আলী শিকদারকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে ভুল বুঝিয়ে টিপসই নেওয়া হয়। পরে সেই টিপসই ব্যবহার করে হেবা দলিল সম্পাদন করা হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ওয়ারিশদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গৌরীপুর পাড়াগাঁও গ্রামের মৃত ইলিম উদ্দিন শিকদারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ ঘটনায় বর্তমানে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ ৩য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় সাহেব আলী শিকদার বাদী এবং দুলাল শিকদারসহ আরও দুজন বিবাদী রয়েছেন।
বক্তারা জানান, মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত ৪৬৯৬ নম্বর হেবা ঘোষণাপত্র দলিলটি প্রতারণা, তঞ্চকতা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে। বাদীর অজ্ঞাতে ও প্রকৃত সম্মতি ছাড়া দলিলটি সম্পাদনের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৬ দশমিক ১৩ একর জমি দান দেখানো হয়েছে এবং পূর্বে বিক্রি বা অন্যের নামে হস্তান্তরিত জমিও ওই দলিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি পরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নিয়ে এমন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তাঁরা আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের পাশাপাশি প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত দুলাল শিকদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। পারিবারিকভাবে আলোচনা করেই দুই ধাপে হেবা দলিল করা হয়েছে। প্রথমে ১ দশমিক ৬১ একর এবং পরে ২ দশমিক ৮০ একর জমির হেবা দলিল সম্পন্ন হয়েছে। আমার অন্যান্য শরিকরা ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। “তিনি আরও বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

