পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে ভালুকায় টেক্সটাইল কারখানার ড্রেন বন্ধ
প্রকাশিতঃ ৩:৩২ pm | এপ্রিল ২১, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নে অবস্থিত ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল’ ও ‘হ্যারি ফ্যাশন লি’ নামের দুটি কারখানার বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে বর্জ্য পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ছাড়পত্রের শর্ত লঙ্ঘন করে ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমিতে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি ফেলার অভিযোগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে কারখানাগুলোর অবৈধ ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করা হয়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাগুলো নির্ধারিত পরিবেশগত বিধি অনুসরণ না করে আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমিতে অপরিশোধিত বর্জ্য পানি ফেলছিল। অবৈধভাবে স্থাপিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব শিল্প বর্জ্য সরাসরি ফসলি জমিতে প্রবাহিত হয়ে পরিবেশ ও কৃষির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানাগুলোর বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের অবৈধ ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন, পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, পরিদর্শক মো. রুকন মিয়া, মিল কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (জি.এম) ইকরাম হোসেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন।
এছাড়াও এ সময় স্থানীয় বিএনপি’র নেতৃবৃন্দের মধ্যে নুরুজ্জামান মানিক, আবুল বাসার মন্ডল, নাজমুল আলম বাদল, আসাদুজ্জামান মামুন, মনির তালুকদার, হুমায়ুন মন্ডল, সবুজ মন্ডল,জনাব আলী মন্ডল, মকবুল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, বদর উদ্দিন, নুরুল হক ভান্ডারী, আবুল কালাম, ইঞ্জি. কামরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, শামসুদ্দিন সেক, ফারুক হোসেন, মিঞ্জু মিয়া ও মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন বলেন, “দীর্ঘ প্রায় ১৬–১৭ বছর ধরে ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল’ ও ‘হ্যারি ফ্যাশন লি’-এর অবৈধ বর্জ্যের কারণে ভরাডোবা ইউনিয়নের প্রায় ৩৩৫.৭৪ একর ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকরা প্রায় ৩৩ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, যা সরকারি তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে। আমরা দ্রুত সুপারিশকৃত ক্ষতিপূরণ কৃষকদের মাঝে বণ্টন এবং পরিবেশ রক্ষায় ক্ষতিকর ডায়িং ইউনিট বন্ধ বা স্থানান্তরের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ছাড়পত্রের শর্ত অনুযায়ী অপরিশোধিত তরল ও ডমেস্টিক বর্জ্য নির্ধারিত স্টিল পাইপলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে নিষ্কাশনের কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা অনুসরণ করেনি। বরং তারা আশপাশের ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমিতে বর্জ্য ফেলছিল। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধের সুপারিশ করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসাইন জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বর্জ্য পানি নিষ্কাশনের অবৈধ ড্রেনেজ লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

